
দেশের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের পূর্ববর্তী প্রাতিষ্ঠানিক কর্মসূচির সামগ্রিক আর্থিক পরিসংখ্যান, ভবিষ্যৎ প্রশাসনিক তদারকি এবং সার্কভুক্ত দেশগুলোর সাথে চলমান দ্বিপাক্ষিক উন্নয়ন প্রকল্পসমূহের বর্তমান চিত্র জাতীয় সংসদে আনুষ্ঠানিকভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। আজ রবিবার স্পিকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংসদীয় প্রশ্নোত্তর পর্বে রংপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহবুবুর রহমান বেলালের এক সুনির্দিষ্ট প্রশ্নের জবাবে এই তথ্য প্রদান করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
অর্থমন্ত্রী জানান, রাষ্ট্রীয় অর্থ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং সম্পদের সর্বোচ্চ সঠিক বণ্টন বজায় রাখতে বর্তমান সরকার প্রতিটি খাতের বাজেট পরিকাঠামো পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করছে।
সংসদে উপস্থাপিত সরকারি তথ্য অনুযায়ী, অতীতে উদযাপিত একটি বিশেষ জাতীয় কর্মসূচির আওতায় বিভিন্ন ভাস্কর্য, বেদি, প্রতিকৃতি ও ডিজিটাল সময় গণনার বোর্ড নির্মাণসহ আনুষঙ্গিক খাতে দেশের ৬২টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মধ্যে ৪৩টি বিভাগের মাধ্যমে মোট ৯৮২ কোটি ৯১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা ব্যবহৃত হয়েছিল। এই তালিকায় খাতভিত্তিক বিশ্লেষণে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় সর্বোচ্চ ২৮৩ কোটি ১৫ লাখ টাকা ব্যবহার করে।
এছাড়া অন্যান্য উল্লেখযোগ্য খাতের মধ্যে রেলপথ মন্ত্রণালয় ২০৬ কোটি ৭৩ লাখ ৭১ হাজার টাকা, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ১৪০ কোটি ৪৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় ১৩৩ কোটি তিন লাখ ২০ হাজার টাকা এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ৪৭ কোটি ৬৬ লাখ ৫৬ হাজার টাকা ব্যবহার করে। একই সাথে সংস্কৃতি, প্রতিরক্ষা, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের প্রাতিষ্ঠানিক বাজেট সংক্রান্ত পরিসংখ্যানও সংসদে পেশ করা হয়। সাবেক শাসন আমলের উচ্চপর্যায়ের এক বছরের সামগ্রিক আনুষঙ্গিক পরিকাঠামো ও যাপন নির্বাহের জন্য প্রায় ৩৫ কোটি টাকা ব্যবহৃত হয়েছিল বলেও অর্থমন্ত্রী উল্লেখ করেন।
সংসদে উত্থাপিত সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, অতীতে সম্পাদিত বিভিন্ন খাতের বিপুল পরিমাণ রাষ্ট্রীয় বরাদ্দের যৌক্তিকতা ক্রমান্বয়ে যাচাই বা ‘স্টক চেকিং’ করছে বর্তমান অর্থ বিভাগ। এই পর্যায়ক্রমিক নিরীক্ষা ও মূল্যায়ন শেষে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক গাইডলাইন ও সিদ্ধান্ত নিশ্চিত করা হবে।
স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার অপর এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী সুদৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, জনগণের সম্পদ ও রাষ্ট্রীয় অর্থ যাতে কোনোভাবেই দেশের বাইরে স্থানান্তরিত হতে না পারে, সেজন্য প্রশাসনিক ও আইনি তদারকি কঠোরভাবে সচল রাখা হয়েছে। দেশের সম্পদ রক্ষায় এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সরকার অনড় অবস্থানে রয়েছে এবং গৃহীত আইনি প্রক্রিয়া নিয়মতান্ত্রিকভাবে চলমান থাকবে।
বক্তব্যের শেষাংশে সংসদ সদস্য মাহবুবুর রহমান বেলালের অপর একটি প্রশ্নের উত্তরে অর্থমন্ত্রী দেশের চলমান অবকাঠামোগত প্রবৃদ্ধির চিত্র তুলে ধরেন। তিনি জানান, সার্কভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে ভারতের সাথে স্বাক্ষরিত তিনটি লাইন অব ক্রেডিট (এলওসি) ঋণচ চুক্তির আওতায় বর্তমানে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সাতটি গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে এগিয়ে চলছে, যা আঞ্চলিক সংযোগ ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।