
শেরপুরে জেলা প্রশাসনের সময়োপযোগী ও তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপে অবশেষে রক্ষা পেয়েছে একটি শতবর্ষী পুরোনো ঐতিহ্যবাহী বটগাছ। শেরপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) ফরিদা ইয়াসমিনের বিশেষ নির্দেশনায় গাছটি কাটা সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিয়েছে স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন।
প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শেরপুর সদর উপজেলার লছমনপুর ইউনিয়নের ছোট ঝাউয়ের চর নামাপাড়া এলাকার একটি পুরাতন ঈদগাহ মাঠ সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এই সংস্কার কাজের অংশ হিসেবে মাঠ প্রাঙ্গণে থাকা ঐতিহাসিক শতবর্ষী বটগাছটি কেটে ফেলার জন্য একটি ফেসবুক পেজে প্রকাশ্যে দরপত্র বা বিক্রির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে স্থানীয় কমিটি।
ফেসবুকে গাছ কাটার এই বিজ্ঞপ্তিটি প্রকাশ হওয়ার পরপরই শেরপুরের স্থানীয় পরিবেশবাদী সংগঠন, গণমাধ্যমকর্মীসহ বিভিন্ন সচেতন মহলের নজরে আসে। সামাজিক বনায়ন ও প্রাচীন ঐতিহ্য ধ্বংসের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে স্থানীয় সচেতন মহলে তীব্র ক্ষোভ, প্রতিবাদ ও নিন্দার ঝড় ওঠে। একপর্যায়ে পরিবেশকর্মীরা বিষয়টি নিয়ে সরাসরি শেরপুরের জেলা প্রশাসকের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন এবং গাছটি রক্ষায় সুনির্দিষ্ট আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ জানান।
বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনা করে জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন তাৎক্ষণিকভাবে শেরপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসমা বিনতে রফিককে মাঠপর্যায়ে তদন্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব প্রদান করেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রায় ৮ শতক জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত ওই ঈদগাহ মাঠ এবং শতবর্ষী বটগাছটি মূলত একটি নিবন্ধিত ওয়াকফ সম্পত্তিভুক্ত এলাকা।
পরবর্তীতে সদর ইউএনও আসমা বিনতে রফিক স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান, সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সাথে সরাসরি যোগাযোগ করেন। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে গাছটি কাটা সাময়িকভাবে স্থগিত করে স্থায়ীভাবে বন্ধের নির্দেশ দেন।
ইউএনও আসমা বিনতে রফিক এ বিষয়ে বলেন, “আমি ইতিমধ্যেই স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) এর মাধ্যমে ঈদগাহ কমিটির সংশ্লিষ্ট লোকজনকে স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছি, যেন কোনো অবস্থাতেই এই প্রাচীন গাছটি কাটা না হয়। কমিটির দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে নিয়েছেন এবং গাছটি আর কাটা হবে না বলে আমাদের আশ্বস্ত করেছেন।”
এ বিষয়ে শেরপুরের জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, “শতবর্ষী গাছের ছবিসহ প্রকাশ্যে ফেসবুক পেজে গাছ কাটার বিজ্ঞপ্তি জারির বিষয়টি স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের মাধ্যমে আমার নজরে আসে। প্রাকৃতিক ভারসাম্য ও পরিবেশের সুরক্ষায় এই ধরনের প্রাচীন গাছ আমাদের সম্পদ। তাই আমি পরবর্তীতে সদর ইউএনওকে দ্রুত আইনগত ও প্রশাসনিক নির্দেশনা দিই বিষয়টি বন্ধ করার জন্য। প্রশাসনের সজাগ দৃষ্টির কারণে একটি বড় পরিবেশগত ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়েছে।”