খেলাপি ঋণ কিনতে গঠিত হচ্ছে নতুন কোম্পানি

সানজিদা শারমিন:
প্রকাশ: ১ ঘন্টা আগে

দেশের ব্যাংকিং খাতের অন্যতম প্রধান সমস্যা খেলাপি ঋণ দ্রুত অপসারণ এবং রুগ্‌ণ শিল্পপ্রতিষ্ঠানের পুনর্গঠন, আধুনিকায়ন ও নতুন বিনিয়োগের পথ সুগম করতে ‘ডিস্ট্রেসড সম্পদ ব্যবস্থাপনা-২০২৬’ নামে একটি নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ইতিমধ্যে অর্থ মন্ত্রণালয় এই আইনের একটি সুনির্দিষ্ট খসড়া প্রণয়ন করেছে। এই আইনের আওতায় ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণকে প্রয়োজনে শেয়ারে রূপান্তর করা সম্ভব হবে। এছাড়া খেলাপি সম্পদ কিনতে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারী ও বিভিন্ন ফান্ডের সমন্বয়ে যৌথ বিনিয়োগ তহবিল গঠন করার বিধানও রাখা হয়েছে।

​(ডিএএমসি) সমূহকে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের অধীনে একটি স্বতন্ত্র ও শক্তিশালী নিয়ন্ত্রক ইউনিট কাজ করবে। পাশাপাশি খেলাপি সম্পদ দ্রুত উদ্ধার ও তা বাস্তবায়নের জন্য একটি শক্তিশালী ‘ডিস্ট্রেসড সম্পদ ব্যবস্থাপনা টাস্কফোর্স’ গঠন করা হবে। এই টাস্কফোর্সকে প্রয়োজনীয় তথ্য ও নথি দিতে দেশের সব সরকারি ও বেসরকারি সংস্থা আইনিভাবে বাধ্য থাকবে।

​এই নতুন উদ্যোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ এম কে মুজেরী জানান, “ব্যাংকের ব্যালেন্স শিট থেকে বিপুল খেলাপি ঋণ দ্রুত দূর করতে এবং ব্যাংকগুলোর নতুন করে ঋণ দেওয়ার সক্ষমতা বাড়াতে এই আইনটি অত্যন্ত ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। তবে এর বাস্তবায়নে কিছু গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জও রয়েছে; বিশেষ করে খেলাপি সম্পদের সঠিক মূল্য নির্ধারণ, রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত বাস্তবায়ন এবং শক্তিশালী তদারকি নিশ্চিত করা। এগুলো সফলভাবে মোকাবিলা করা গেলে বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণে সম্পদ বিক্রি ও পুনরুদ্ধারের বড় সুযোগ তৈরি হবে।”

​স্বায়ত্তশাসিত ইউনিট (ডিএএমইউ): এটি প্রশাসনিকভাবে বাংলাদেশ ব্যাংকের অধীনে থাকলেও আইন প্রয়োগে সম্পূর্ণ স্বায়ত্তশাসিত ক্ষমতা ভোগ করবে। এর প্রধানের পদমর্যাদা হবে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নরের সমান এবং তাঁর ব্যাংকিং অর্থনীতি বা সম্পদ ব্যবস্থাপনায় কমপক্ষে ১৫ বছরের কাজের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। সর্বোচ্চ ৩ বছরের জন্য নিযুক্ত এই প্রধানের বয়স ৬৫ বছর পূর্ণ হলে তিনি পদে থাকতে পারবেন না।

​আলাদা ট্রাস্ট গঠন: ব্যাংক থেকে কেনা কোনো খেলাপি সম্পদ কোম্পানির নিজস্ব সম্পদ হবে না; বরং তা আলাদা ট্রাস্টের নামে রাখা হবে। ফলে কোম্পানি কোনো কারণে দেউলিয়া হলেও ট্রাস্টে থাকা সম্পদের ওপর কোম্পানির নিজস্ব পাওনাদাররা কোনো আইনগত দাবি করতে পারবেন না।

​কঠোর লাইসেন্সিং ও তদারকি: লাইসেন্স ছাড়া কোনো কোম্পানি এই ব্যবসা করতে পারবে না। প্রতিটি কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদে অন্তত ২০ শতাংশ স্বাধীন পরিচালক রাখতে হবে। কার্যক্রম পরিচালনার সময় কোনো কোম্পানি অর্থ পাচার, সন্ত্রাসে অর্থায়ন বা প্রতারণায় জড়িত হলে তদন্ত সাপেক্ষে তাদের লাইসেন্স বাতিল করা হবে।

​তহবিল সংগ্রহ: এই কোম্পানিগুলো ঋণগ্রহণ, শেয়ার ও বন্ড ইস্যু বা বিদেশি বিনিয়োগের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করতে পারবে। তবে স্বার্থের সংঘাত এড়াতে কোনো ব্যাংক বা ফাইন্যান্স কোম্পানি থেকে সরাসরি ঋণ নেওয়ার ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা থাকবে।

​লোন সার্ভিসার কোম্পানি (এলএসসি): ঋণ পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়াকে আরও পেশাদার করতে এলএসসি গঠনের বিধান রাখা হয়েছে। এরা ঋণগ্রহীতার সঙ্গে আলোচনা, পুনঃ তফসিল ও প্রযুক্তিভিত্তিক পুনরুদ্ধারে কাজ করবে। তবে তারা নিজ নামে মামলা বা কোনো ধরনের জবরদস্তিমূলক ও বেআইনি উপায়ে ঋণ আদায় করতে পারবে না।

error: Content is protected !!