দেশে চিংড়ি খাতের উৎপাদন ও রপ্তানি সম্ভাবনা বাড়াতে ভেনামি চিংড়ি চাষে দেওয়া স্থগিতাদেশ শিথিলের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, পোনা আমদানি ও চাষ কার্যক্রম পুনরায় চালুর বিষয়ে নীতিগত পর্যায়ে আলোচনা এগিয়ে চলছে।
মৎস্য খাত দেশের রপ্তানি আয়, কর্মসংস্থান এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। দীর্ঘদিন ধরে গলদা ও বাগদা চিংড়ির ওপর নির্ভরশীল এ খাতে নতুন সম্ভাবনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে ভেনামি চিংড়ি।
সরকারি সূত্র জানায়, চলতি বছরের শুরুতে ভেনামি চিংড়ির পোনা আমদানি ও চাষ কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করা হলেও সাম্প্রতিক সময়ে এ বিষয়ে একাধিক পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো সম্ভাব্য অর্থনৈতিক সুফল, আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদা এবং প্রযুক্তিনির্ভর উৎপাদন ব্যবস্থার বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে নতুন সিদ্ধান্তের দিকে এগোচ্ছে।
মৎস্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, ভেনামি চিংড়ি তুলনামূলক দ্রুত বর্ধনশীল এবং স্বল্প সময়ে বাজারজাত করা সম্ভব। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে অধিক ঘনত্বে চাষ করা যায় বলে উৎপাদন সক্ষমতাও বাড়ানো সম্ভব হয়।
এ ছাড়া সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, ফেনী ও কক্সবাজারসহ কয়েকটি জেলায় পরীক্ষামূলক ও বাণিজ্যিক চাষের জন্য বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। তবে বর্তমানে কার্যক্রম সীমিত রয়েছে।
খাতসংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে ভেনামি চিংড়ির চাহিদা বাড়তে থাকায় বাংলাদেশ এ খাতে অংশগ্রহণ বাড়াতে পারলে রপ্তানি আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের চিংড়ি খাতের একটি অংশেও আধুনিক পদ্ধতিতে ভেনামি চাষ সম্প্রসারণ করা গেলে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।
মৎস্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে নীতিগত সিদ্ধান্তের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হলে পরবর্তী নির্দেশনা দেওয়া হবে।