
দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যাতায়াত মাধ্যম রেলওয়ের যাত্রী সাধারণের নিরাপত্তা ও ট্রেনের সার্বিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার অংশ হিসেবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশনে এক বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। শুক্রবার (১০ জুলাই) স্টেশন এলাকার ২ নম্বর প্ল্যাটফর্মে অভিযান চালিয়ে একটি বিশেষ চক্রের ১১ জন নারী সদস্যকে নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে রেলওয়ে থানা পুলিশ।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, আটককৃত এই ১১ নারী সদস্যের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নাসিরনগর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ধরমণ্ডল গ্রামে। তাঁদের সুনির্দিষ্ট নাম ও পরিচয় দাপ্তরিক নথিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. শাহ আলম গণমাধ্যমকে অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, দীর্ঘদিন ধরে এই অঞ্চলের বিভিন্ন আন্তঃনগর ও লোকাল ট্রেনগুলোতে ভ্রমণকারী সাধারণ নারী যাত্রীদের গলার চেইন, কানের দুলসহ মূল্যবান স্বর্ণালংকার নিখোঁজ হওয়ার বেশ কিছু ঘটনা ঘটছিল। এই অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই ও ভুক্তভোগীদের সহায়তার জন্য গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছিল।
পরবর্তীতে শুক্রবার দুপুরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায় যে, উক্ত দলের সদস্যরা ২ নম্বর প্ল্যাটফর্মে অবস্থান করছেন। তথ্যের ভিত্তিতে রেলওয়ে পুলিশের একটি চৌকস দল দ্রুত সেখানে অভিযান পরিচালনা করে তাঁদের হেফাজতে নিতে সক্ষম হয়। প্রশাসনের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এই চক্রের সদস্যরা বিভিন্ন সময়ে চলন্ত ট্রেনে সাধারণ যাত্রীদের বিভ্রান্ত করে মূল্যবান সামগ্রী সংগ্রহ করার বিষয়টি স্বীকার করেছেন।
রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, আটককৃত এই ১১ জন নারী সদস্যের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন রেলওয়ে ও জেলা থানায় ইতিপূর্বেও একাধিক সুনির্দিষ্ট আইনি মামলা ও অভিযোগ নথিভুক্ত রয়েছে। তাঁরা মূলত দলবদ্ধভাবে দেশের বিভিন্ন রুটে চলাচলকারী ট্রেনে এই ধরণের কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিলেন।
রেলওয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই শুদ্ধি অভিযান অত্যন্ত ফলপ্রসূ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ইনচার্জ মো. শাহ আলম জানান, প্রাথমিক দাপ্তরিক প্রক্রিয়া ও আইনানুগ কাগজপত্রের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার পর আজ বিকেলেই আটককৃতদের সুনির্দিষ্ট মামলায় বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে বিচারিক হেফাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। যাত্রীদের সুরক্ষায় রেলওয়ে স্টেশনে এই ধরণের সতর্কতামূলক ও প্রতিরোধমূলক অভিযান আগামীতেও নিয়মিত অব্যাহত থাকবে বলে তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন।