গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার নিচকিন চাপড় গ্রামসহ আশপাশের বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে এখন চলছে বোরো ধান কাটার ব্যস্ততা। পাকা ধানের সোনালি আভা আর কৃষকদের কর্মচাঞ্চল্যে মুখর হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা। তবে ভালো ফলন সত্ত্বেও উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি এবং সাম্প্রতিক বৃষ্টিপাতের কারণে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন কৃষকরা।
ভোর হতেই কাস্তে হাতে মাঠে নামছেন কৃষকরা। অনেক এলাকায় ধান কাটা ও মাড়াইয়ের কাজ পুরোদমে চলছে। কিন্তু কয়েকদিনের বৃষ্টিতে কিছু জমিতে পানি জমে থাকায় ধান কাটতে ও পরিবহনে বাড়তি ব্যয় গুনতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কৃষকরা।
কৃষকদের অভিযোগ, সার, কীটনাশক ও জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় চলতি মৌসুমে উৎপাদন খরচ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। ফলে বাম্পার ফলন হলেও প্রত্যাশিত লাভ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
নিচকিন চাপড় গ্রামের এক প্রান্তিক কৃষক বলেন, “ফলন ভালো হয়েছে, কিন্তু উৎপাদন খরচও অনেক বেড়েছে। এর সঙ্গে বৃষ্টির কারণে জমিতে পানি জমে থাকায় ধান কাটতে অতিরিক্ত খরচ হচ্ছে। সব মিলিয়ে লাভ কতটুকু হবে, তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।”
স্থানীয় কৃষকদের মতে, উৎপাদন ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বাজারমূল্য না পেলে কাঙ্ক্ষিত লাভ পাওয়া কঠিন হবে। তারা ধানের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অনুকূল আবহাওয়া ও আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতির কারণে এ বছর ফলন ভালো হয়েছে। তবে কৃষকের লাভ নিশ্চিত করতে বাজার ব্যবস্থাপনা ও উৎপাদন ব্যয়ের বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।