কুষ্টিয়ার কুমারখালীর শিলাইদহে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর-এর স্মৃতিবিজড়িত কুঠিবাড়িকে ঘিরে দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যবাহী গ্রামীণ মেলা এবার অনুষ্ঠিত না হওয়ায় হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা।
২৫ বৈশাখ কবিগুরুর ১৬৫তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে কুঠিবাড়িতে তিনদিনব্যাপী আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হলেও এবার বসেনি বহুল পরিচিত গ্রামীণ মেলা। ফলে দূর-দূরান্ত থেকে আসা শতাধিক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী লোকসানের মুখে পড়ে দোকানপাট গুটিয়ে ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা রবিউল ইসলাম বলেন, স্বাধীনতার পর থেকেই কুঠিবাড়ির মেলা দেখে আসছেন তিনি। আগে মেলাকে ঘিরে আত্মীয়-স্বজনদের মিলনমেলা বসত, এলাকায় উৎসবের আমেজ থাকত। কিন্তু এবার মেলা না হওয়ায় সেই ঐতিহ্য যেন হারিয়ে যেতে বসেছে।

মাদারীপুর থেকে আসা ব্যবসায়ী মো. আনোয়ার হোসেন জানান, প্রায় দুই দশক ধরে তিনি এই মেলায় ব্যবসা করছেন। এবারও খরচ করে পণ্য নিয়ে এলেও শেষ পর্যন্ত মেলা না হওয়ায় ক্ষতির মুখে পড়েছেন। একই ধরনের অভিযোগ করেন শরীয়তপুর থেকে আসা খেলনা ব্যবসায়ী মীর বাবুল ও ব্যবসায়ী আব্দুস সাত্তার ব্যাপারী। তাঁদের দাবি, প্রশাসনের নির্দেশে দোকান সরিয়ে নিতে হওয়ায় প্রত্যেক ব্যবসায়ীর কয়েক হাজার টাকা পর্যন্ত লোকসান হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, কুঠিবাড়ির আশপাশে অস্থায়ীভাবে বসানো দোকানগুলো ভেঙে মালামাল গুছিয়ে নিচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। অনেকের চোখেমুখে ছিল হতাশার ছাপ।

স্থানীয় প্রবীণ বাসিন্দাদের মতে, কুঠিবাড়ির গ্রামীণ মেলা শুধু বাণিজ্যিক আয়োজন নয়, এটি এ অঞ্চলের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই ঐতিহ্য রক্ষায় ভবিষ্যতে মেলাটি পুনরায় চালুর দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) জাকির হোসেন বলেন, কবিগুরুর জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। তবে প্রস্তুতি সভায় সিদ্ধান্ত না হওয়ায় এবার মেলার আয়োজন করা হয়নি।