চট্টগ্রামের মানুষের পাশে দৃঢ় অবস্থানে জেলা প্রশাসক

নিজস্ব প্রতিবেদক:
প্রকাশ: ৪৬ minutes ago

টানা পাঁচ দিনের ভারী বর্ষণের ফলে চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলার নিচু এলাকাগুলোতে পানির স্তর বৃদ্ধি পাওয়ায় মাঠপর্যায়ে সমন্বিত উদ্ধার ও পুনর্বাসন কার্যক্রম শুরু করেছে স্থানীয় জেলা প্রশাসন। জেলাজুড়ে উদ্ভূত এই বিশেষ পরিস্থিতি মোকাবিলায় এবং নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসনের অধীনস্থ সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর সাপ্তাহিক ছুটিসহ সব ধরনের ছুটি পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আয়োজিত এক বিশেষ সংবাদ সম্মেলনে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা সাংবাদিকদের এই গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের কথা জানান। তিনি স্পষ্ট করেন যে, এই মুহূর্তে প্রতিটি নাগরিকের জীবন রক্ষা এবং তাদের কাছে প্রয়োজনীয় সরকারি সহায়তা পৌঁছে দেওয়াই প্রশাসনের একমাত্র লক্ষ্য।

জেলা প্রশাসক জানান, জেলার প্রতিটি উপজেলা এবং জেলা প্রশাসনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ২৪ ঘণ্টার জন্য বিশেষ কন্ট্রোল রুম চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে মাঠপর্যায়ের উদ্ধার কার্যক্রম ও ত্রাণ বিতরণ পরিস্থিতি প্রতি মুহূর্তে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। জেলা প্রশাসন থেকে এই সার্বিক পরিস্থিতি নিয়মিতভাবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়কে অবহিত করা হচ্ছে এবং সেখান থেকে প্রতি ঘণ্টার হালনাগাদ তথ্যের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করা হচ্ছে।

সরকারি সহায়তা প্রসঙ্গে মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, “দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে ইতোমধ্যে ২০০ মেট্রিক টন চাল ও ১০ লাখ টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে। এর পাশাপাশি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ তহবিল থেকে আরও ২০ লাখ টাকার আর্থিক অনুদান যুক্ত হয়েছে। প্রথম দফার এই বরাদ্দগুলো ইতোমধ্যে সাতকানিয়া, চন্দনাইশ, লোহাগাড়া, বাঁশখালী ও বোয়ালখালীসহ বিভিন্ন উপজেলায় ইউএনওদের মাধ্যমে দ্রুততার সাথে বিতরণ করা হচ্ছে, যাতে কোনো পরিবার খাদ্যসামগ্রীর অভাব বোধ না করে।”

সাতকানিয়াসহ অন্যান্য উপজেলার নিচু এলাকায় নৌকার মাধ্যমে উদ্ধার অভিযান জোরদার করা হয়েছে। দুর্গতদের আরও দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে জরুরি ভিত্তিতে ১০টি আধুনিক স্পিডবোট চেয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে চিঠি পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে জেলা প্রশাসন, আনসার বাহিনী, রেড ক্রিসেন্ট, ইফসা এবং স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক দলগুলোর সমন্বয়ে গঠিত একাধিক বিশেষ টিম মাঠপর্যায়ে কাজ করছে।

নাগরিকদের সুরক্ষায় জেলায় মোট ৬২৯টি আশ্রয়কেন্দ্র সম্পূর্ণ প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ইতোমধ্যে সাতকানিয়া, লোহাগাড়া ও চন্দনাইশে প্রায় আট হাজার মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান নিয়েছেন। জেলা প্রশাসক নিজে লালখান বাজার, পোড়া পাহাড় ও ১ নম্বর ঝিলসহ বিভিন্ন পাহাড়ি অঞ্চল পরিদর্শন করে বাসিন্দাদের আশ্রয়কেন্দ্রে আসার অনুরোধ জানিয়েছেন।

আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে অবস্থান নেওয়া নাগরিকদের জন্য শুকনো খাবার (চিঁড়া, মুড়ি, গুড়), কেক, বিস্কুট, ওরস্যালাইন এবং বিশুদ্ধ পানির পাশাপাশি গর্ভবতী নারী, শিশু ও বয়স্কদের জন্য বিশেষ ও জরুরি স্বাস্থ্যসেবার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। জেলা প্রশাসক সমাজের সকল স্তরের মানুষকে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে দুর্গতদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়ে বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতায় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মানুষকে নিরাপদ স্থানে স্থানান্তরের প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে।

error: Content is protected !!