
বর্তমানের বিশেষ আঞ্চলিক আবহাওয়া ও পারিপার্শ্বিক অবস্থা বিবেচনায় দেশের চলমান এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার সময়সূচিতে আংশিক পরিবর্তন এনে একটি জরুরি বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি। সংশ্লিষ্ট জেলার জেলা প্রশাসকদের পাঠানো প্রতিবেদন এবং চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের সুনির্দিষ্ট সুপারিশের ভিত্তিতে আগামী ১৩ জুলাই (সোমবার), ১৫ জুলাই (বুধবার) এবং ১৬ জুলাই (বৃহস্পতিবার) ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিতব্য পরীক্ষাসমূহ পুনর্নির্ধারণ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, সময়সূচির এই আংশিক পরিবর্তন কেবল নির্দিষ্ট একটি বোর্ডের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। দেশের সামগ্রিক শিক্ষা কার্যক্রম সচল রাখতে এবং পরীক্ষার্থীদের সুবিধার্থে এই প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড ও অন্যান্য বোর্ডের চিত্র
শিক্ষা বোর্ডের অফিশিয়াল নির্দেশনা অনুযায়ী, পরীক্ষার এই পুনর্নির্ধারণ প্রক্রিয়াটি শুধুমাত্র চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীনস্থ সকল জেলার জন্য কার্যকর হবে। তবে চট্টগ্রাম বিভাগের এই সুনির্দিষ্ট জেলাগুলো ব্যতীত দেশের অন্য সমস্ত সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড এবং বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন নির্ধারিত পরীক্ষাগুলো পূর্বঘোষিত মূল সময়সূচি ও রুটিন অনুযায়ী সারা দেশে যথারীতি ও নিয়মতান্ত্রিকভাবে অনুষ্ঠিত হবে। অন্যান্য বোর্ডের পরীক্ষার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের পরিবর্তন আনা হয়নি।
আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে যে, চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন পুনর্নির্ধারণ করা পরীক্ষাগুলোর নতুন ও পরিবর্তিত সময়সূচি খুব দ্রুতই আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ায় ঘোষণা করা হবে। পরিবর্তিত রুটিনটি প্রস্তুত হওয়ামাত্রই তা গণমাধ্যম ও বোর্ডের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটের মাধ্যমে সকলের জন্য উন্মুক্ত করা হবে।
পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান
জরুরি এই বিজ্ঞপ্তিতে সংশ্লিষ্ট সকল পরীক্ষার্থী, অভিভাবক এবং বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের পরিবর্তিত এই সিদ্ধান্তের আলোকে প্রয়োজনীয় অভ্যন্তরীণ প্রস্তুতি গ্রহণ করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হয়েছে। শিক্ষাসংশ্লিষ্ট প্রশাসন শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার ধারাবাহিকতা বজায় রাখার পরামর্শ দিয়েছে।
একই সাথে, পরীক্ষার পরিবর্তিত চূড়ান্ত রুটিন এবং শিক্ষা সংক্রান্ত যেকোনো সঠিক তথ্যের জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কোনো গুজবে কান না দিয়ে, শুধুমাত্র শিক্ষা বোর্ডের অফিশিয়াল নোটিশ ও সরকারি বিজ্ঞপ্তির প্রতি সার্বক্ষণিক দৃষ্টি রাখার জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে। দেশের শিক্ষা সেক্টরের এই জরুরি ও সমন্বিত সিদ্ধান্তের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও সুষ্ঠু পরীক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন শিক্ষাবিদেরা।