আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে চাঁপাইনবাবগঞ্জের বিভিন্ন সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে অবৈধভাবে ভারতীয় গরু অনুপ্রবেশের খবর পাওয়া গেছে। সীমান্ত পেরিয়ে ভারতীয় গরু বাংলাদেশে প্রবেশ করায় চরম উদ্বেগ ও লোকসানের আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন জেলার স্থানীয় খামারি ও সাধারণ পশু পালনকারীরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কোরবানির ঈদ ঘনিয়ে আসায় সীমান্ত এলাকার কিছু চোরাকারবারি চক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে। তারা গভীর রাতে বিজিবি ও প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে সীমান্ত পার করে ভারতীয় গরু দেশের ভেতরে নিয়ে আসছে। পরে এসব পশু দ্রুত ট্রাকে করে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের হাটে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
সীমান্তে নজরদারি জোরদার করার ফলে সম্প্রতি বড় ধরনের কিছু সাফল্যও পেয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। গত রবিবার দিবাগত রাতে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর ও শিবগঞ্জ উপজেলা সীমান্তে বিজিবির পৃথক অভিযানে প্রায় ৩৫ লাখ টাকা মূল্যের ১৪টি ভারতীয় গরু জব্দ করা হয়। এর কিছুদিন আগেও নারায়ণপুর ইউনিয়নের মাটপাড়া এলাকা থেকে ৪টি পরিত্যক্ত ভারতীয় গরু উদ্ধার করে বিজিবির ৫৩ ব্যাটালিয়ন।
এদিকে ভারতীয় গরুর এই অবৈধ অনুপ্রবেশের খবরে কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে দেশীয় খামারিদের। শিবগঞ্জ ও সদর উপজেলার একাধিক খামারি জানান, গত কয়েক মাসে গো-খাদ্য ও ওষুধের দাম যেভাবে আকাশচুম্বী হয়েছে, তাতে এবার পশু পালনে উৎপাদন খরচ অনেক বেশি পড়েছে। দেশের ভেতরের খামারগুলোতে কোরবানির চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত পশু প্রস্তুত রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে যদি সীমান্ত দিয়ে অবৈধ উপায়ে ভারতীয় গরু দেশের বাজারে ঢোকে, তবে দেশীয় গরুর দাম এক ধাক্কায় কমে যাবে। ফলে ছোট ও মাঝারি খামারিদের বড় ধরনের আর্থিক লোকসান গুণতে হবে।
জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ থেকে জানানো হয়েছে, খামারিদের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে এবং অবৈধ চোরাচালান বন্ধে সীমান্ত এলাকায় প্রশাসন ও বিজিবি কঠোর অবস্থানে রয়েছে। স্থানীয় খামারিদের স্বার্থ সুরক্ষায় সীমান্তজুড়ে নজরদারি আরও জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল ও খামার মালিক অ্যাসোসিয়েশন।