দুই মাস পর মাছ ধরা শুরু, উপকূলে উৎসবের আমেজ

স্টাফ রিপোর্টার | দেশ এডিশন:
প্রকাশ: ৯ minutes ago

দুই মাসের সরকারি নিষেধাজ্ঞা শেষে ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার উপকূলীয় জেলেরা আবারও নদীতে মাছ ধরতে নামতে শুরু করেছেন। মা মাছ ও জাটকা সংরক্ষণে মার্চ-এপ্রিল—এই দুই মাস মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীর বিস্তীর্ণ এলাকায় সব ধরনের মাছ ধরা বন্ধ রাখা হয়েছিল। নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার পর বৃহস্পতিবার মধ্যরাত থেকে অর্ধলক্ষাধিক জেলে নদীতে নামতে শুরু করেছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

চরফ্যাশনের সামরাজ মৎস্যঘাট, আটকপাট, পাঁচকপাট, নতুন স্লুইসগেট ও মাইনুদ্দি ঘাট এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, জেলে পল্লীগুলোতে এখন উৎসবমুখর পরিবেশ। কেউ জাল মেরামত করছেন, কেউ নৌকা ও ইঞ্জিন প্রস্তুত করছেন, আবার কেউ ইতোমধ্যে নদীতে নৌকা নামিয়ে দিয়েছেন। দীর্ঘ বিরতির পর কাজে ফেরায় জেলেদের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

তবে প্রস্তুতির এই সময়ে কিছু ভোগান্তির কথাও জানিয়েছেন জেলেরা। বরফ ও ডিজেল সংগ্রহে বাড়তি খরচ ও জটিলতায় পড়তে হচ্ছে বলে অভিযোগ তাদের।

মাইনুদ্দি মৎস্যঘাটের জেলে সেলিম মাঝি বলেন, “নিষেধাজ্ঞা মেনেছি, কিন্তু এই দুই মাস পরিবার চালাতে অনেক কষ্ট হয়েছে।”
অন্যদিকে জেলে কালাম জানান, সরকারি বরাদ্দের চাল সময়মতো না পাওয়ায় অনেক পরিবার মানবেতর দিন কাটিয়েছে। জ্বালানি তেলের উচ্চমূল্যও মাছ ধরার প্রস্তুতিতে বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে।

চরফ্যাশন উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা জয়ন্ত কুমার অপু জানান, নিষেধাজ্ঞা চলাকালে ভেদুরিয়া থেকে চর রুস্তম পর্যন্ত প্রায় ১০০ কিলোমিটার এবং ইলিশা থেকে চর পিয়াল পর্যন্ত প্রায় ৯০ কিলোমিটার এলাকায় নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। জাটকা সংরক্ষণের ফলে চলতি মৌসুমে ইলিশ উৎপাদন বৃদ্ধির আশা করছেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, জেলেদের সহায়তায় সরকার চার মাসে ১৬০ কেজি করে ভিজিএফ চালসহ খাদ্য সহায়তা দিয়েছে, যা এবার আরও সম্প্রসারণ করা হয়েছে।

নিষেধাজ্ঞা শেষে নদীতে জাল ফেলতে পেরে উপকূলীয় জেলে পরিবারগুলো নতুন আশায় বুক বাঁধছে। তাদের প্রত্যাশা—নদী ও সাগরে মিলবে পর্যাপ্ত মাছ, ঘুরে দাঁড়াবে জীবিকা।

error: Content is protected !!