দীর্ঘ প্রায় দেড় মাস পর আবারও বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে হস্তক্ষেপ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ডলার কিনে বাজারে ভারসাম্য রক্ষার উদ্যোগ নিয়েছে।
বুধবার (১৭ এপ্রিল) একটি বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ৭ কোটি ডলার ক্রয় করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক, যার দর ছিল প্রতি ডলার ১২২ টাকা ৭৫ পয়সা। এর আগে সর্বশেষ গত ২ মার্চ দুই ব্যাংক থেকে মোট আড়াই কোটি ডলার কেনা হয়েছিল। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত মোট ৫৫৬ কোটি ডলার (৫.৫৬ বিলিয়ন) কেনা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক উত্তেজনার কারণে কিছুদিন আগে ব্যাংকগুলো আগাম বকেয়া পরিশোধ শুরু করায় ডলারের ওপর চাপ তৈরি হয়েছিল। ফলে তখন ডলার কেনা থেকে বিরত ছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
তবে বর্তমানে পরিস্থিতি বদলেছে। ব্যাংকগুলোর ওপর বকেয়া পরিশোধের চাপ কমে যাওয়ায় এবং রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ায় বাজারে ডলারের সরবরাহ বেড়েছে। এ কারণে ডলারের দর কমার প্রবণতা দেখা দিলে বাজার স্থিতিশীল রাখতে আবারও ডলার কেনা শুরু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি এপ্রিলের প্রথম ১৪ দিনে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ১৬০ কোটি ডলার, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৫ শতাংশ বেশি। আর চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত মোট রেমিট্যান্স এসেছে ২ হাজার ৭৮১ কোটি ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় ২০.৬০ শতাংশ বেশি।
ডলারের দর নিয়ন্ত্রণে রাখতে ইতোমধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক আন্তঃব্যাংক লেনদেনে সর্বোচ্চ ১২২ টাকা ৭০ পয়সা এবং এক্সচেঞ্জ হাউস থেকে রেমিট্যান্স কেনার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১২২ টাকা ৯০ পয়সা নির্ধারণ করে দিয়েছে। পাশাপাশি অতিরিক্ত দামে ডলার কেনা থেকে ব্যাংকগুলোকে মৌখিকভাবে সতর্ক করা হয়েছে।
বর্তমানে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৪.৮৭ বিলিয়ন ডলার। তবে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) এর বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে রিজার্ভের পরিমাণ ৩০.২০ বিলিয়ন ডলার।
বিশ্লেষকরা বলছেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ পরবর্তী সময় থেকে ডলারের দামে অস্থিরতা শুরু হয়, যা দেশের অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করে এবং মুদ্রাস্ফীতি বাড়িয়ে দেয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয়ের প্রবৃদ্ধির ফলে ডলারের সরবরাহ বেড়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, “বর্তমানে বাজারে ডলারের সরবরাহ চাহিদার তুলনায় বেশি। ডলারের দাম যেন অস্বাভাবিকভাবে কমে না যায়, সেজন্য আমরা ডলার কিনে বাজারে ভারসাম্য বজায় রাখছি।”
তিনি আরও জানান, ডলারের দর অত্যধিক কমে গেলে প্রবাসী আয় ও রপ্তানি খাত ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রতিদিন রেফারেন্স রেট নির্ধারণ করে তা পর্যবেক্ষণ করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।