জাঙ্গিয়া ব্যবহারে যেসব বিষয়ে খেয়াল রাখবেন

ফাহিম হাসান :
প্রকাশ: ১২ ঘন্টা আগে

পুরুষদের পোশাক-আশাক এবং জীবনযাত্রার ওপর তাদের স্বাস্থ্য অনেকাংশেই নির্ভর করে। তবে সাম্প্রতিক চিকিৎসাবিজ্ঞান ও গবেষণায় উঠে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। পুরুষদের অন্তর্বাস বা জাঙ্গিয়ার ভুল ব্যবহারের কারণে সাময়িকভাবে কিংবা স্থায়ীভাবে পুরুষত্ব বা প্রজনন ক্ষমতা হারানোর ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

চিকিৎসকদের মতে, ফ্যাশন কিংবা অসচেতনতার কারণে অনেক পুরুষই অন্তর্বাস নির্বাচনের ক্ষেত্রে মারাত্মক ভুল করে থাকেন, যা পরবর্তীতে তাদের বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখে ফেলে দেয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সমস্যার প্রধান কারণ হলো অতিরিক্ত টাইট বা আঁটসাঁট অন্তর্বাস পরিধান করা। মানবদেহে পুরুষাঙ্গ এবং অণ্ডকোষের তাপমাত্রা স্বাভাবিক শরীরের তাপমাত্রার চেয়ে কিছুটা কম থাকা আবশ্যক। কিন্তু অতিরিক্ত টাইট জাঙ্গিয়া ব্যবহারের ফলে অণ্ডকোষ শরীরের খুব কাছাকাছি চেপে থাকে, যার কারণে সেখানকার তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বৃদ্ধি পায়। এই অতিরিক্ত তাপ শুক্রাণু উৎপাদনের প্রক্রিয়াকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করে এবং শুক্রাণুর গুণগত মান কমিয়ে দেয়। দীর্ঘ সময় ধরে এমনটা চলতে থাকলে তা বন্ধ্যাত্ব বা পুরুষত্বহীনতার দিকে ধাবিত করতে পারে।

শুধু ফিটিং বা সাইজ নয়, অন্তর্বাসের কাপড়ের উপাদানও এক্ষেত্রে সমান গুরুত্বপূর্ণ। সিনথেটিক, নাইলন বা পলিয়েস্টার কাপড়ের তৈরি জাঙ্গিয়া ব্যবহারের ফলে শরীরে বাতাস চলাচল করতে পারে না। ফলে ওই অংশে অতিরিক্ত ঘাম ও আর্দ্রতা জমে ব্যাকটেরিয়া ও ফাঙ্গাল ইনফেকশনের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। চিকিৎসকরা তাই সিনথেটিক কাপড়ের পরিবর্তে সবসময় সুতি বা কটন কাপড়ের তৈরি আরামদায়ক এবং কিছুটা ঢিলেঢালা অন্তর্বাস বা বক্সার পরার পরামর্শ দিয়ে থাকেন।
সুস্থ ও স্বাভাবিক প্রজনন ক্ষমতা বজায় রাখতে পুরুষদের অন্তর্বাস ব্যবহারের ক্ষেত্রে আরও সচেতন হওয়া জরুরি।

চিকিৎসকদের পরামর্শ হলো, রাতে ঘুমানোর সময় অন্তর্বাস এড়িয়ে চলা এবং সারাদিন পরার ক্ষেত্রে আরামদায়ক ও সঠিক মাপের পোশাক বেছে নেওয়া। সামান্য একটু সচেতনতাই পারে এই নীরব কিন্তু মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকে মুক্তি দিতে।

error: Content is protected !!