
ঐতিহাসিক জুলাই আন্দোলনের সঠিক তথ্যচিত্র ও ইতিহাস ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সংরক্ষণ এবং তা বিশ্বদরবারে তুলে ধরার লক্ষ্যে মানসম্মত চলচ্চিত্র নির্মাণের জন্য দেশের যোগ্য ও দক্ষ চলচ্চিত্র পরিচালকদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। গতকাল শনিবার জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আয়োজিত একটি বিশেষ অডিও-ভিজ্যুয়াল প্রকাশনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক ও জাতীয় গাইডলাইন প্রদান করেন।
তিনি জানান, ইতিহাসের এই অনন্য ও বীরত্বপূর্ণ অধ্যায়কে চিরকাল অমর করে রাখতে এবং সমসাময়িক ঘটনাপ্রবাহের সঠিক পরিক্রমা নথিবদ্ধ করার জন্য সেলুলয়েডের ফিতা বা চলচ্চিত্রের চেয়ে শক্তিশালী মাধ্যম আর হতে পারে না।
মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম তাঁর বক্তব্যে জুলাই আন্দোলনের ওপর ভিত্তি করে চলচ্চিত্র নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থায়নের বিষয়ে অত্যন্ত সুদৃঢ় ও ব্যক্তিগত প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন। তিনি জানান, রাষ্ট্র যদি এই ধরনের জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ চলচ্চিত্র নির্মাণের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক ফান্ডের ব্যবস্থা নাও করতে পারে, তবুও এই কাজ থেমে থাকবে না। তিনি নিজের ব্যক্তিগত সম্পদ ও গাড়ি বিক্রি করে হলেও এই চলচ্চিত্র তহবিলে অর্থ জোগান দিতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত আছেন।
তিনি আরও যোগ করেন, ইতিহাসের এই গৌরবময় অধ্যায়কে ধারণ করতে এবং এর প্রচার নিশ্চিত করতে যেকোনো স্তরের ত্যাগ স্বীকার করতে তিনি বিন্দুমাত্র দ্বিধা করবেন না। এই আন্দোলনের ঐতিহাসিক তাৎপর্যকে যারা ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার কিংবা কোনো ধরনের নেতিবাচক প্রচারণা চালানোর চেষ্টা করছে, তাদের বস্তুনিষ্ঠ ও শৈল্পিক উপায়ে রুখে দেওয়ার জন্য একটি তথ্যনির্ভর চলচ্চিত্র নির্মাণ করা বর্তমান সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।
বক্তব্যের অন্য অংশে তাজুল ইসলাম জুলাই আন্দোলনকে একটি যুগান্তকারী ও মহাকাব্যিক অধ্যায় হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, এই আন্দোলনে সাধারণ মানুষ ও ছাত্র সমাজ অত্যন্ত সাহসিকতার সাথে নিজেদের অবস্থান বজায় রেখেছিল। তৎকালীন সময়ের প্রতিকূল ও অবরুদ্ধ পরিস্থিতির কথা স্মরণ করে তিনি জানান, সেই সময়ে চিকিৎসা ক্ষেত্রেও এক ধরনের প্রশাসনিক মানবিক সংকটের সৃষ্টি হয়েছিল।
তিনি হাসপাতালের বিভিন্ন তথ্য উল্লেখ করে বলেন, তৎকালীন নীতিগত সিদ্ধান্তের কারণে আহত সাধারণ নাগরিকদের চিকিৎসা সেবা এবং প্রয়োজনীয় অস্ত্রোপচার প্রাপ্তির ক্ষেত্রে ব্যাপক জটিলতা ও বাধানিষেধের সম্মুখীন হতে হয়েছিল, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। এই ঐতিহাসিক সত্যগুলো এবং জনগণের আত্মত্যাগের সঠিক বিবরণী চলচ্চিত্রের মাধ্যমে বিশ্ববাসীর কাছে বস্তুনিষ্ঠভাবে ফুটিয়ে তোলা উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন। উপস্থিত বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা তাঁর এই জাতীয় আহ্বানকে অত্যন্ত ইতিবাচক হিসেবে স্বাগত জানিয়েছেন।