আনোয়ারা উপজেলা—উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দুটি জেনারেটর থাকলেও তেলের অভাবে সেগুলো চালু করা যাচ্ছে না। সরকারি বরাদ্দ না থাকায় জ্বালানি তেল কেনা সম্ভব হচ্ছে না, ফলে লোডশেডিংয়ের সময় জরুরি অস্ত্রোপচারসহ বিভিন্ন চিকিৎসাসেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। তীব্র গরমে রোগীদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।
শনিবার বিকেলে সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যুৎ না থাকায় হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে রোগীরা প্রচণ্ড গরমে কষ্ট পাচ্ছেন। রোগীর স্বজনরা হাতপাখা, কাগজ ও কাপড় দিয়ে বাতাস করছেন। শিশু ওয়ার্ডে গরমে কান্না করছে শিশুরা, অনেকে শিশুদের কোলে নিয়ে হাসপাতালের বাইরে হাঁটছেন।
রোগী ও চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দিনের প্রায় অর্ধেক সময় বিদ্যুৎ থাকে না। অনেক রোগী এই অবস্থায় হাসপাতালে থাকতে না পেরে চলে যাচ্ছেন। চিকিৎসকেরা জানান, বাধ্য হয়ে চার্জার লাইটের সাহায্যে রোগী দেখতে হচ্ছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ৫ লাখ টাকায় ১০ কেভি ক্ষমতার একটি জেনারেটর সরবরাহ করে। পরে ২০২৪ সালে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ ৩০ কেভি ক্ষমতার আরও একটি জেনারেটর দেন। তবে জ্বালানি তেলের বরাদ্দ না থাকায় কোনো জেনারেটরই চালু রাখা সম্ভব হচ্ছে না। হাসপাতালে ভর্তি রোগী মিজানুর রহমান বলেন, “আমি অসুস্থ হয়ে চিকিৎসা নিতে এসেছি। কিন্তু বিদ্যুৎ না থাকলে কোনো জেনারেটর চলে না। তীব্র গরমে রোগীদের অবস্থা খুবই খারাপ, বিশেষ করে শিশুদের।”
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মাহতাব উদ্দিন বলেন, “দুটি জেনারেটর থাকলেও তেলের কোনো সরকারি বরাদ্দ নেই। তাই খুব বেশি জরুরি না হলে জেনারেটর চালু করা সম্ভব হয় না।” বর্তমানে ৫০ শয্যার এই হাসপাতালে ধারণক্ষমতার দ্বিগুণ রোগী ভর্তি রয়েছে। প্রতিদিন জরুরি বিভাগ ও বহির্বিভাগে এক হাজারের বেশি রোগী চিকিৎসাসেবা নিচ্ছেন। সাম্প্রতিক সময়ে রোগীর চাপ বেড়ে প্রতি মাসে গড়ে ৪০ থেকে ৪৫ হাজার রোগীকে সেবা দিতে হচ্ছে। আনোয়ারার পাশাপাশি আশপাশের উপজেলাগুলো থেকেও রোগীরা এখানে চিকিৎসা নিতে আসেন।
তবে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও জনবল সংকটের কারণে অনেক ক্ষেত্রেই কাঙ্ক্ষিত সেবা প্রদান সম্ভব হচ্ছে না বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।