নগরকান্দায় শহীদ জিয়ার ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিকী পালিত

মোঃ শাহাদাৎ হোসেন, নগরকান্দা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি:
প্রকাশ: ৪১ minutes ago

ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলায় যথাযোগ্য মর্যাদায় ও ভাবগম্ভীর পরিবেশে স্বাধীনতার ঘোষক, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক সফল রাষ্ট্রপতি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিকী পালিত হয়েছে। গতকাল ৩০ মে শনিবার বিকেল ৩ ঘটিকায় উপজেলার আকরামুন্নেসা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এই উপলক্ষে এক বিশাল আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুর তথা দক্ষিণবঙ্গের বিশিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির অন্যতম সাংগঠনিক সম্পাদক ও গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ।

নগরকান্দা উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোঃ হাবিবুর রহমান বাবুল তালুকদারের সভাপতিত্বে এবং উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শওকত আলী শরীফের দক্ষ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে সার্বিক চিত্র ধারণে সহযোগিতা করেন জনাব আবু হুরায়রা এবং মাঠ পর্যায় থেকে প্রতিবেদনটি তৈরি করেছেন ফরিদপুর জেলা প্রতিনিধি মোঃ শাহাদাৎ হোসেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শ ও তাঁর দেশপ্রেমের কথা বাংলার ইতিহাসে আজীবন স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। ১৯৭১ সালের ২৬ ও ২৭ মার্চ চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে তাঁর দেওয়া ঐতিহাসিক স্বাধীনতার ঘোষণা দেশের দিশেহারা ও মুক্তিকামী মানুষকে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে সরাসরি মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার চূড়ান্ত অনুপ্রেরণা জুগিয়েছিল। রাজনৈতিক নেতৃত্বের শূন্যতার মাঝে তাঁর সেই অকুতোভয় ঘোষণা ছিল বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ। জিয়াউর রহমানের এই আদর্শিক ধারা বাংলার বুকে চিরকাল চলমান থাকবে। তিনি আরও আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে এবং জনমানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় মন্ত্রী পরিষদ ও সংসদ সদস্যগণ অত্যন্ত কঠোর ও নিষ্ঠার সাথে দেশ পরিচালনা করবেন।

বক্তাগণ শহীদ রাষ্ট্রপতির রাজনৈতিক জীবনের ওপর সংক্ষিপ্ত আলোকপাত করে বলেন, ১৯৭৭ সালে রাষ্ট্রক্ষমতা গ্রহণের পর দেশের অবরুদ্ধ রাজনীতিকে মুক্ত করে তিনি বহুদলীয় গণতন্ত্র, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা এবং মুক্তবাজার অর্থনীতি প্রবর্তন করেন। ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর ‘বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ’-এর কালজয়ী দর্শনের ওপর ভিত্তি করে তিনি বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁর ঘোষিত ‘১৯ দফা কর্মসূচি’, কৃষি ক্ষেত্রে খাল খনন ও সেচ বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছিল। এছাড়া আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি বৃদ্ধি এবং দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা (সার্ক) গঠনের মূল উদ্যোক্তা ছিলেন তিনিই। ১৯৮১ সালের ৩০ মে এক ব্যর্থ সামরিক অভ্যুত্থানে এই মহান নেতা শাহাদাত বরণ করলেও তাঁর দর্শন আজও এদেশের কোটি মানুষের হৃদয়ে অম্লান।

আলোচনা সভা শেষে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের রুহের মাগফিরাত কামনা এবং দেশ ও জাতির কল্যাণ ও সমৃদ্ধি প্রার্থনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। মোনাজাত শেষে সভাপতি জনাব মোঃ হাবিবুর রহমান বাবুল তালুকদার তাঁর সমাপনী ও ধন্যবাদ জ্ঞাপনসূচক বক্তব্যের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।

error: Content is protected !!