নোয়াখালীতে বিমানবন্দর, গাজীপুরে অর্থনৈতিক অঞ্চলসহ ৪৯৮ প্রস্তাব ডিসিদের

দেশ এডিশন ডেস্ক:
প্রকাশ: ২ ঘন্টা আগে

দেশজুড়ে উন্নয়ন ও প্রশাসনিক কার্যক্রম জোরদারে জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) দেওয়া ৪৯৮টি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করতে যাচ্ছে সরকার। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এসব প্রস্তাব বাছাই করে আসন্ন ডিসি সম্মেলনের আলোচ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করেছে।

রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে রোববার থেকে শুরু হওয়া চার দিনব্যাপী এই সম্মেলন চলবে ৬ মে পর্যন্ত। এতে মোট ৩৪টি অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে। নতুন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই প্রথম ডিসি সম্মেলন, যা প্রশাসনিক ও নীতিনির্ধারণী দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সম্মেলনে আলোচনার জন্য নির্ধারিত প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে—নোয়াখালীতে আন্তর্জাতিক মানের বিমানবন্দর নির্মাণ, গাজীপুরে অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা, রংপুরে এক হাজার শয্যার হাসপাতাল গড়ে তোলা, এবং প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) ও গভর্নমেন্ট প্লিডার (জিপি) নিয়োগ।

এ ছাড়া জাতীয় বাজেটের অর্থ দ্রুত ছাড়, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক আট লেনে উন্নীতকরণ, চা-বাগানে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন, দরিদ্র প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য অবৈতনিক শিক্ষা নিশ্চিত করা, একীভূত শিক্ষাক্রম চালু এবং ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মাতৃভাষায় শিক্ষা বিস্তারের মতো বিষয়ও আলোচনায় রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সারাদেশ থেকে মোট ১ হাজার ৭২৯টি প্রস্তাব জমা পড়েছিল। সেখান থেকে গুরুত্ব বিবেচনায় ৪৯৮টি প্রস্তাব চূড়ান্ত করা হয়েছে।

গত সম্মেলনের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন পর্যালোচনায় দেখা গেছে, স্বল্পমেয়াদি সিদ্ধান্তের প্রায় ৬১ শতাংশ বাস্তবায়িত হয়েছে। মধ্যমেয়াদি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের হার ৩৫ শতাংশ এবং দীর্ঘমেয়াদি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হয়েছে ১৬ শতাংশ।

চার দিনের এই সম্মেলনে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মন্ত্রী ও সচিবদের সঙ্গে ডিসিরা সরাসরি মতবিনিময় করবেন। মাঠপর্যায়ের প্রশাসনের অভিজ্ঞতা ও প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে নীতিনির্ধারণে কার্যকর দিকনির্দেশনা দেওয়াই এ সম্মেলনের মূল লক্ষ্য।

সম্মেলনের উদ্বোধনের পর প্রথম দিনেই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মুক্ত আলোচনায় অংশ নেবেন বিভাগীয় কমিশনার ও ডিসিরা। পাশাপাশি রাষ্ট্রপতি, জাতীয় সংসদের স্পিকার এবং প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের কর্মসূচিও রয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ডিসিদের প্রস্তাব ও আলোচনার মাধ্যমে মাঠ প্রশাসনের চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা তুলে ধরা সম্ভব হবে, যা আগামী দিনের উন্নয়ন পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

error: Content is protected !!