
হিজরি সনের প্রথম মাস মহররমের ১০ তারিখ তথা পুণ্যময় ‘পবিত্র আশুরা’ আজ। সারা বিশ্বের মুসলিম উম্মাহর কাছে দিনটি গভীর শোক, অসীম ত্যাগ এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে সত্য ও ন্যায়ের এক মহান আদর্শ স্মরণের দিন হিসেবে পরিচিত। বাংলাদেশেও আজ যথাযথ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, আধ্যাত্মিক পরিবেশ এবং মর্যাদার সাথে পবিত্র আশুরা পালিত হচ্ছে।
ইসলামী চিন্তাবিদদের মতে, মানব ইতিহাসের বহু তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা এই ১০ই মহররমের সাথে মিশে আছে। আশুরার দিনটি সৃষ্টির আদি লগ্ন থেকেই পুণ্যময় ও বরকতময়। অন্যায় ও অসত্যের কাছে মাথা নত না করে সত্যের পথে অবিচল থাকার যে কালজয়ী শিক্ষা ইসলামের ইতিহাসে রয়েছে, আশুরা আমাদের সেই মহান আত্মত্যাগের কথাই স্মরণ করিয়ে দেয়।
ইবাদত-বন্দেগি ও ঐতিহ্যবাহী তাজিয়া মিছিল
আশুরা উপলক্ষে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা আজ নফল রোজা রাখা, পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত, জিকির-আসকার এবং বিশেষ দোয়ার মাধ্যমে দিনটি অতিবাহিত করছেন। রাজধানী ঢাকার পুরান ঢাকার হোসনি দালান ইমামবাড়া, বড় কাটরাসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে স্বাস্থ্যবিধি ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রেখে সনাতন ঐতিহ্যবাহী তাজিয়া মিছিল বের করার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে এই বিশেষ দিনটির তাৎপর্য তুলে ধরবেন।
পবিত্র আশুরা উপলক্ষে মহামান্য রাষ্ট্রপতি এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী পৃথক বাণী দিয়েছেন। বাণীতে তাঁরা আশুরার শাশ্বত শিক্ষা ও মহান আদর্শকে ধারণ করে সমাজ থেকে অন্যায়, অবিচার ও বৈষম্য দূর করার আহ্বান জানান এবং মুসলিম উম্মাহর সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন।
দিনটি সরকারি ছুটির দিন হওয়ায় সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহ বন্ধ রয়েছে। আশুরা ও ঐতিহ্যবাহী তাজিয়া মিছিলকে কেন্দ্র করে রাজধানী ঢাকা বিশেষ করে পুরান ঢাকা, মিরপুর, মোহাম্মদপুরসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ বড় শহরগুলোতে পুলিশ ও র্যাবের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারির পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিশেষ টহল দল মোতায়েন রয়েছে।