পাথরকাণ্ডের তদন্তে গিয়ে মাজার প্রসঙ্গে মোড়

সিলেট ব্যুরো (দেশ এডিশন):
প্রকাশ: ২ ঘন্টা আগে

সিলেটের প্রশাসনিক ইতিহাসে কিছু বদলি থাকে কেবল রুটিন প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, আবার কিছু বদলি সময়ের ঘটনাপ্রবাহের সঙ্গে মিলিয়ে চলে আসে আলোচনার কেন্দ্রে। সিলেটের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. সারওয়ার আলমের সাম্প্রতিক প্রত্যাহার স্থান পেয়েছে দ্বিতীয় তালিকাতেই।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে মো. সারওয়ার আলমকে জেলা প্রশাসকের পদ থেকে প্রত্যাহার করে মন্ত্রণালয়ে উপসচিব হিসেবে সংযুক্ত করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে এই বদলির সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ উল্লেখ করা না হলেও, সাম্প্রতিক কয়েকটি আলোচিত ঘটনার প্রেক্ষাপটে তার এই প্রত্যাহার সিলেটবাসীর মনে নানা কৌতূহল ও প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

সিলেটে দায়িত্ব গ্রহণের পর শুরুতেই অবৈধ পাথর উত্তোলন, পরিবেশবিধি লঙ্ঘন এবং প্রভাবশালী মহলের নিয়ন্ত্রণের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের কারণে বেশ আলোচনায় আসেন মো. সারওয়ার আলম। বিষয়টি ‘পাথরকাণ্ড’ নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের সক্রিয় ভূমিকা হিসেবে স্থানীয়ভাবে ব্যাপক প্রশংসিত ও পরিচিতি পায়। টাস্কফোর্সের নিয়মিত অভিযান, নজরদারি ও কঠোর প্রশাসনিক তৎপরতার কারণে জনপরিসরে তার কার্যক্রম বিশেষভাবে আলোচিত হয়।

পাথরকাণ্ডের পর সম্প্রতি আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আসেন জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলম। এবার সিলেটের হযরত शाहজালাল (রহ.) ও শাহপরান (রহ.) মাজারের দান ব্যবস্থাপনা নিয়ে কিছু প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। মাজারের প্রচলিত পদ্ধতিতে পরিবর্তন এনে প্রশাসনের পক্ষ থেকে দানবাক্স স্থাপন এবং কিছু কাঠামোগত সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়। স্থানীয় প্রশাসন এসব উদ্যোগকে দানের অর্থের স্বচ্ছতা ও জনআস্থা বৃদ্ধির প্রচেষ্টা হিসেবে উল্লেখ করলেও, সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে এ নিয়ে চরম অসন্তোষ দেখা দেয়। অনেকের মতে, দীর্ঘদিনের প্রচলিত ব্যবস্থার সঙ্গে এই নতুন পদক্ষেপগুলো এক ধরনের সমন্বয়হীনতা তৈরি করছিল। আর এই আলোচনা-সমালোচনার মধ্যেই হঠাৎ করে তাকে প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত আসে।

সরকারি পর্যায়ে এটিকে নিয়মিত প্রশাসনিক রদবদল হিসেবে ব্যাখ্যা করা হলেও জনমনে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে মো. সারওয়ার আলমের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে হযরত শাহজালাল (রহ.) দরগাহ শরীফের সরেকওম মোতাওয়াল্লী ফতেহ উল্লাহ আল আমান বলেন, “জেলা প্রশাসকের বদলি সরকারের একান্তই প্রশাসনিক বিষয়। তবে তার দায়িত্ব পালনকালে দরগাহ শরীফের দান ও মানত ব্যবস্থাপনা নিয়ে যে আলোচনা সৃষ্টি হয়েছিল, তা সাধারণ ভক্তদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহের জন্ম দিয়েছে। আমরা সবসময় মনে করি, দরগাহ শরীফের শতবর্ষের ঐতিহ্য, ধর্মীয় অনুভূতি এবং প্রচলিত ব্যবস্থাপনার প্রতি সম্মান রেখে যেকোনো সংস্কার বা পরিবর্তন আনা উচিত। একই সঙ্গে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতাও নিশ্চিত করতে হবে।”

প্রশাসনসংশ্লিষ্ট পর্যবেক্ষকদের মতে, সরকারি প্রশাসনে বদলি একটি সাধারণ ও চলমান প্রক্রিয়া। তবে কোনো কর্মকর্তা যখন একাধিক স্পর্শকাতর বিষয়ে একসঙ্গে দৃশ্যমান ভূমিকা পালন করেন, তখন তার প্রস্থানও স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ রুটিন সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে জনমনে বাড়তি আলোচনার খোরাক জোগায়।

error: Content is protected !!