
পার্বত্য অঞ্চলের সাম্প্রতিক অতিবর্ষণ ও পাহাড়ি প্রকৃতির প্রভাবজনিত কারণে কর্মহীন হয়ে পড়া পানছড়ি উপজেলার প্রান্তিক ও শ্রমজীবী মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে ৩ বিজিবি লোগাং জোন। দিনমজুরির ওপর নির্ভরশীল যেসব পরিবারের সাধারণ জীবনযাপন সাম্প্রতিক সময়ে কিছুটা চ্যালেঞ্জিং হয়ে পড়েছে, এমন ৩০টি নির্বাচিত পরিবারের মাঝে জোনের পক্ষ থেকে ভালোবাসার উপহার হিসেবে প্রাতিষ্ঠানিক খাদ্য সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।
উপজেলার মোল্লাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে উপকারভোগী নাগরিকদের হাতে এই খাদ্যসামগ্রী তুলে দেন ৩ বিজিবি লোগাং জোনের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. রবিউল ইসলাম।
খাদ্যসামগ্রী বিতরণের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হওয়ার আগে ৩ বিজিবি লোগাং জোনের অধিনায়ক মোল্লাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের সাথে এক আনন্দঘন মতবিনিময় সভায় মিলিত হন। এ সময় তিনি কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ স্বপ্ন, উচ্চশিক্ষা অর্জনের পরিকল্পনা এবং দৈনন্দিন পড়াশোনার খোঁজখবর নেন। শিক্ষার্থীদের প্রাতিষ্ঠানিক ও নৈতিক শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ করতে তিনি বিভিন্ন দিকনির্দেশনামূলক পরামর্শ ও উৎসাহ প্রদান করেন।
মতবিনিময় ও বিতরণ পর্ব শেষে বিদ্যালয়ের পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা এবং সবুজায়নের অংশ হিসেবে স্কুল প্রাঙ্গণে একটি ফলদ বৃক্ষের চারা রোপণ করেন জোন অধিনায়ক। মানবিক সহায়তা, শিশুদের প্রতি আন্তরিকতা এবং পরিবেশ সংরক্ষণে একযোগে নেওয়া ৩ বিজিবির এই বহুমাত্রিক উদ্যোগ স্থানীয় সুধীসমাজ ও সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়েছে।
অনুষ্ঠানে ৩ বিজিবি লোগাং জোনের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. রবিউল ইসলাম তাঁর বক্তব্যে বলেন, পাহাড়ি অববাহিকার অতিবৃষ্টির কারণে পার্বত্য অঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে পরিকাঠামোগত প্রভাব পড়েছে। তবে অন্যান্য এলাকার তুলনায় পানছড়ি অঞ্চলে এর মাত্রা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, যাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা সাময়িকভাবে বাধাগ্রস্ত হয়েছে, সম্পূর্ণ ভালোবাসার টানে ও সামাজিক দায়িত্ববোধ থেকে বিজিবি তাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে। সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি বিজিবি সবসময় দেশের যেকোনো পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের কল্যাণে কাজ করেছে এবং ভবিষ্যতেও এই ধারা অব্যাহত থাকবে।
উক্ত সামাজিক কার্যক্রমে আরও উপস্থিত ছিলেন ৩ বিজিবির উপ-অধিনায়ক মেজর ইমরুল, সহকারী পরিচালক মো. আবদুল মতিন এবং মোল্লাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. নেযামত উল্লাহ রিপনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। উপস্থিত উপকারভোগীরা সংকটকালীন সময়ে বিজিবির এই সময়োপযোগী ও আন্তরিক সহায়তার প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।