প্রতিটি শিক্ষার্থীকে গাছ লাগানোর আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

স্টাফ রিপোর্টার (দেশ এডিশন):
প্রকাশ: ১ ঘন্টা আগে

দেশের জলবায়ু সুরক্ষা, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং নতুন প্রজন্মকে দেশপ্রেম ও শৃঙ্খলায় উদ্বুদ্ধ করতে প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে প্রতি বছর অন্তত একটি করে গাছের চারা রোপণের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে দেশকে সম্পূর্ণ পরিচ্ছন্ন রাখতে এবং নিজ নিজ আঙিনা থেকে পরিবেশ রক্ষায় সক্রিয় ভূমিকা পালনের জন্য শিক্ষার্থীদের প্রতি জোর আহ্বান জানান তিনি।

গতকাল সোমবার (২৮ জুন) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত বিশেষ এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছানোর পর বিএনসিসির একটি চৌকস দল প্রধানমন্ত্রীকে গার্ড অব অনার প্রদান করে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর বক্তব্যে মাঠপর্যায়ের বাস্তব চিত্র তুলে ধরে বলেন, “অনুষ্ঠানস্থলে আসার আগে আমি বাইরে একটি বৃক্ষরোপণ করেছি। আমার সঙ্গে সারা বাংলাদেশে অনলাইনে ২৯ হাজার ৬০০টি ভিন্ন স্থানে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো সংযুক্ত ছিল। প্রতিটি জায়গায় আজকে তিনটি করে গাছ লাগানো হয়েছে। সব মিলিয়ে একদিনে দেশব্যাপী প্রায় ৯০ হাজার গাছের চারা রোপণ করা হয়েছে।”

জনসংখ্যা ও যানবাহন বৃদ্ধির ফলে বায়ুদূষণের কথা উল্লেখ করে তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, “সরকার তোমাদের জন্য এমন সুযোগ-সুবিধা তৈরি করবে যাতে তোমরা আত্মবিশ্বাসী হয়ে গড়ে উঠতে পারো। তার বিনিময়ে আমি তোমাদের কাছে একটি জিনিস চাই—প্রতি বছর প্রত্যেকে একটি করে গাছ রোপণ করবে। তুমি নিজের জন্য একটি গাছ লাগাবে। একসময় দেখবে গাছটাই তোমার সবচেয়ে ভালো বন্ধু হয়ে উঠেছে।” গাছের প্রতি নিজের ব্যক্তিগত ভালোবাসার গোপন কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, গাছ যখন বাতাসে দুলতে থাকে, তখন তা থেকে তিনি কাজের নতুন নতুন পরিকল্পনা ও অনুপ্রেরণা পান।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের বৈজ্ঞানিক ও উদ্ভাবনী প্রকল্পের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘উদ্ভাবনী মেধাবী পুরস্কার’ প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান। প্রতিযোগিতায় দেশসেরা চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে ঢাকার সেন্ট জোসেফ উচ্চ বিদ্যালয়।

পুরস্কারপ্রাপ্ত ও প্রশংসিত অন্যান্য শীর্ষ প্রতিষ্ঠানগুলো হলো— মেহেরপুরের সন্ধানী স্কুল অ্যান্ড কলেজ, দিনাজপুর সরকারি কলেজ, দিনাজপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ঢাকার আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজ, নীলফামারীর শরীফাবাদ স্কুল অ্যান্ড কলেজ, চট্টগ্রামের ফুলকি সহজপাঠ বিদ্যালয়, কুষ্টিয়া জেলা স্কুল, নড়াইল সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এবং পটুয়াখালীর গলাচিপা আলিম মাদ্রাসা। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ও ডা. জুবাইদা রহমানকে বিশেষ স্মারক ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।

আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখার ওপর বিশেষ তাগিদ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “সবার আগে বাংলাদেশ। তোমাদের মতো তরুণ প্রজন্ম যেই দেশে আছে, সেই দেশকে নিয়ে খুব বেশি দুশ্চিন্তা করার প্রয়োজন নেই। তবে দরকার শৃঙ্খলা। আমাদের রাস্তাঘাট এখনো নোংরা, যা আমরা নিজেরাই করছি। শুধু সিটি করপোরেশন বা পৌরসভার ওপর দায়িত্ব ছেড়ে দিলে হবে না। নিজের এলাকাকে নিজের ঘরের মতো পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।”

ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের ব্যাটন তরুণদের হাতে সঁপে দিয়ে ৬০ বছর বয়সি এই রাষ্ট্রপ্রধান আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, “আমাদের সময় প্রায় শেষ হয়ে যাচ্ছে। এখন সময় তোমাদের। ভবিষ্যৎ তোমাদের। দেশ গড়ে তুলতে হবে তোমাদেরই।” সুন্দর ও সতেজ পরিবেশে বসেই তরুণরা নতুন নতুন গবেষণা ও টেকসই পরিকল্পনা করতে পারবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

উক্ত গৌরবময় অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেলসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্টার্টআপ উদ্যোক্তা ও সরকারি-বেসরকারি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।

error: Content is protected !!