বর্ণিল আয়োজনে নন্দপাল ভান্তের ৭৪তম জন্মজয়ন্তী উদযাপন

রুপম চাকমা, বাঘাইছড়ি প্রতিনিধি:
প্রকাশ: ২ ঘন্টা আগে

খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় বর্ণিল আয়োজন ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে বিশিষ্ট বৌদ্ধ ধর্মীয় গুরু পরম পূজনীয় সাধনানন্দ মহাস্থবির বনভান্তের শিষ্য সংঘের প্রধান এবং ভারত-বাংলা ধর্ম প্রচারক শ্রদ্ধেয় নন্দপাল মহাস্থবির ভান্তের ৭৪তম জন্মজয়ন্তী উদযাপন উপলক্ষে দুইদিনব্যাপী ধর্মীয় অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে।

শনিবার (৯ মে ২০২৬) অনুষ্ঠানের প্রথম দিনে দিনব্যাপী বিভিন্ন ধর্মীয় কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। বিকেলে দীঘিনালা বন বিহার থেকে একটি বর্ণাঢ্য ধর্মীয় শোভাযাত্রা বের হয়ে দীঘিনালা-বাবুছড়া প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে পুনরায় বিহার প্রাঙ্গণে এসে শেষ হয়। পরে শ্রদ্ধেয় নন্দপাল ভান্তের উপস্থিতিতে ৮৪ হাজার প্রদীপ প্রজ্জ্বলন করা হয়।

রবিবার (১০ মে) দ্বিতীয় দিনের কর্মসূচি ভোরে বুদ্ধ পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে শুরু হয়। পরে নন্দপাল ভান্তের ৭৪তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে কেক কেটে অনুষ্ঠানের শুভ উদ্বোধন করেন পরম পূজনীয় নন্দপাল মহাস্থবির ভান্তে।

সকাল সাড়ে ৯টায় ভিক্ষু সংঘকে মঞ্চে আনার পর উদ্বোধনী সংগীতের মধ্য দিয়ে শুরু হয় মূল ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা। অনুষ্ঠানে বুদ্ধ মূর্তি দান, সংঘ দান, অষ্টপরিষ্কার দান, মহাসংঘ দানসহ বিভিন্ন ধর্মীয় আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে ধর্মীয় আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দীঘিনালা বন বিহারের আজীবন অধ্যক্ষ শ্রদ্ধেয় নন্দপাল মহাস্থবির ভান্তে, বিমুক্তিপুর ভাবনা কুঠিরের অধ্যক্ষ প্রিয় নন্দ মহাস্থবির ভান্তে, দেব ডাম্মা মহাথের ধুতাঙ্গটিলা বন বিহার এবং দীঘিনালা সাধনাটিলা বন বিহারের বুদ্ধ বংশ মহাস্থবির ভান্তেসহ বিভিন্ন শাখা বন বিহার থেকে আগত ৮৯ জন বৌদ্ধ ভিক্ষু।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ২ নম্বর বোয়ালখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান চয়ন বিকাশ চাকমা, ৩ নম্বর কবাখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নলেস চাকমা, বাবুছড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গগন বিকাশ চাকমাসহ বিভিন্ন সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে চেয়ারম্যান নলেস চাকমা বলেন, “ভদন্ত নন্দপাল ভান্তে দীর্ঘদিন ধরে মানবকল্যাণ, নৈতিক শিক্ষা ও বৌদ্ধ ধর্ম প্রচারে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন। তাঁর আদর্শ তরুণ সমাজকে নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধ গঠনে অনুপ্রাণিত করছে।”

অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া ভক্তরা জানান, এ ধরনের আয়োজন ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সামাজিক বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করে। উৎসবমুখর পরিবেশে নানা ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে জন্মজয়ন্তী উদযাপিত হওয়ায় এলাকায় আনন্দঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে।

শেষে দেশ, জাতি ও বিশ্বশান্তি কামনায় বিশেষ প্রার্থনার মধ্য দিয়ে দুইদিনব্যাপী অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

error: Content is protected !!