নওগাঁর -এ স্বাস্থ্যসেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে। ২০২২ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী প্রায় ৩ লাখ ৮০ হাজারের বেশি মানুষের জন্য একমাত্র সরকারি এই চিকিৎসাকেন্দ্রে দেখা দিয়েছে তীব্র অ্যাম্বুলেন্স সংকট ও দীর্ঘদিনের জনবল ঘাটতি। ফলে জরুরি মুহূর্তে রোগী পরিবহনে মারাত্মক ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন স্থানীয়রা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতালের জন্য বরাদ্দকৃত একাধিক অ্যাম্বুলেন্স দীর্ঘদিন ধরে অচল অবস্থায় পড়ে আছে। মরিচা ধরা ও জরাজীর্ণ এসব যানবাহন ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বর্তমানে মাত্র একটি অ্যাম্বুলেন্স সচল থাকলেও সেটি দিয়ে বিপুল সংখ্যক রোগীর চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অধিকাংশ সময় জরুরি প্রয়োজনে অ্যাম্বুলেন্স পাওয়া যায় না। বাধ্য হয়ে রোগীদের উচ্চ ভাড়ায় বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স ব্যবহার করতে হয়, যা নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য বড় বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অ্যাম্বুলেন্স সংকটের পাশাপাশি হাসপাতালটিতে রয়েছে প্রকট জনবল ঘাটতি। প্রয়োজনীয় সংখ্যক চিকিৎসক, নার্স ও সহায়ক কর্মচারী না থাকায় প্রতিটি বিভাগেই সেবা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
রোগীদের অভিযোগ, দীর্ঘ সময় লাইনে অপেক্ষা করেও অনেক ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসা পাওয়া যায় না। প্রয়োজনীয় ওষুধের ঘাটতিও দীর্ঘদিনের সমস্যা হিসেবে রয়ে গেছে।
সেবা নিতে আসা স্থানীয়রা জানান, প্রায় চার লাখ মানুষের জন্য এই একটি হাসপাতালই প্রধান ভরসা। কিন্তু চিকিৎসক সংকট ও অ্যাম্বুলেন্সের অপ্রতুলতার কারণে জরুরি রোগীদের জীবন ঝুঁকিতে পড়ছে। অনেক ক্ষেত্রে রোগীদের জেলা সদর বা -এ নেওয়ার প্রয়োজন হলেও সময়মতো পরিবহন না পাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে।
স্থানীয় সচেতন মহল ও এলাকাবাসী অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তারা অচল অ্যাম্বুলেন্স দ্রুত মেরামত, নতুন অ্যাম্বুলেন্স সংযোজন এবং শূন্য পদে প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কার্যালয় থেকেও সেবা স্বাভাবিক রাখতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া হলে এলাকার সাধারণ মানুষ ন্যূনতম স্বাস্থ্যসেবা থেকেও বঞ্চিত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়বে।