চট্টগ্রামে হামের বিস্তার, সতর্ক থাকার আহ্বান

নিজস্ব প্রতিবেদক:
প্রকাশ: ১৮ minutes ago

চট্টগ্রাম নগরীতে হামের সংক্রমণ বাড়তে থাকায় নগরীর নয়টি এলাকাকে বিশেষ নজরদারির আওতায় এনেছে স্বাস্থ্য বিভাগ। ঘনবসতি, শিল্পাঞ্চল এবং বিভিন্ন জেলা থেকে মানুষের নিয়মিত যাতায়াত রয়েছে— এমন এলাকাগুলোতেই আক্রান্তের সংখ্যা তুলনামূলক বেশি দেখা যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, নগরীর জালালাবাদ, চান্দগাঁও, উত্তর পাহাড়তলী, লালখান বাজার, পূর্ব বাকলিয়া, আলকরণ, দক্ষিণ মধ্যম হালিশহর, দক্ষিণ হালিশহর ও উত্তর পতেঙ্গা এলাকায় হামের রোগী বেশি শনাক্ত হওয়ায় এসব অঞ্চলকে ‘হটস্পট’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এলাকার সার্ভিল্যান্স অ্যান্ড ইমিউনাইজেশন মেডিকেল অফিসার খাদিজা আহমেদ বলেন, বর্তমানে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মতো চট্টগ্রামেও হামের সংক্রমণ বাড়ছে। বিশেষ করে ঘনবসতিপূর্ণ ও শ্রমঘন এলাকাগুলোতে আক্রান্তের সংখ্যা বেশি পাওয়া যাচ্ছে।

তিনি জানান, বন্দর-পতেঙ্গা, সদরঘাট-আলকরণ-কোতোয়ালী ও বাকলিয়া এলাকায় সংক্রমণের প্রবণতা তুলনামূলক বেশি। এসব এলাকায় বাইরের জেলা থেকে মানুষের চলাচল বেশি থাকায় সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে, টিকাদান কার্যক্রম জোরদারের পাশাপাশি আক্রান্তদের আলাদা রেখে চিকিৎসা দেওয়া এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে সংক্রমণ দ্রুত বাড়ায় হাসপাতালগুলোতে চাপও বেড়েছে।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, হামের উপসর্গ নিয়ে বিপুল সংখ্যক শিশু চিকিৎসা নিচ্ছে। হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে আক্রান্ত শিশুদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। গুরুতর অবস্থায় থাকা কয়েকজন শিশুকে নিবিড় পরিচর্যা ইউনিটেও চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রতিদিন নতুন রোগী ভর্তি হচ্ছে। জ্বর, সর্দি, কাশি ও শ্বাসকষ্টের মতো উপসর্গ নিয়ে অনেক শিশুকে হাসপাতালে আনা হচ্ছে। চিকিৎসকদের মতে, নিউমোনিয়া বা শ্বাসকষ্টের মতো জটিলতা দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা প্রয়োজন হচ্ছে।

সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্যে জানা গেছে, জেলায় হামের লক্ষণ নিয়ে কয়েকজন শিশুর মৃত্যুর তথ্য বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে পাওয়া গেছে। তবে স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলছেন, চূড়ান্ত পরীক্ষার পর নিশ্চিত তথ্য প্রকাশ করা হচ্ছে।

চট্টগ্রাম জেলায় এখন পর্যন্ত শতাধিক মানুষের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে, যার বড় অংশই নগর এলাকার বাসিন্দা। উপজেলা পর্যায়েও আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।

স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন, সাধারণ রোগ নিয়ে হাসপাতালে আসা শিশুদের মধ্যেও সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ছে। এ কারণে আক্রান্ত শিশুদের আইসোলেশনে রেখে চিকিৎসার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন পরিচালিত কয়েকটি হাসপাতালকে শুধুমাত্র হামের রোগীদের চিকিৎসার জন্য প্রস্তুত করার পরিকল্পনা চলছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

চিকিৎসকদের ভাষ্য, হামের নির্দিষ্ট কোনো ওষুধ না থাকলেও সময়মতো চিকিৎসা ও পরিচর্যার মাধ্যমে জটিলতা কমানো সম্ভব। আক্রান্তদের বিশ্রাম, পর্যাপ্ত তরল খাবার এবং প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কর্মকর্তারা বলছেন, হাম প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো টিকাদান। ইতোমধ্যে চট্টগ্রাম জেলায় চলমান বিশেষ টিকা কার্যক্রমে কয়েক লাখ শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে টিকার পাশাপাশি ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধি মানাও জরুরি। জনসমাগম এড়িয়ে চলা, হাঁচি-কাশির সময় সতর্ক থাকা, নিয়মিত হাত ধোয়া এবং প্রয়োজন হলে মাস্ক ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া আক্রান্ত শিশুদের অন্যদের থেকে আলাদা রাখা এবং দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

error: Content is protected !!