রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে চলমান তীব্র লোডশেডিংয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। এর সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে চলমান এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের ওপর। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ না থাকায় তারা স্বাভাবিকভাবে পড়াশোনা করতে পারছে না, যা তাদের ফলাফলের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অভিভাবকরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিনই কয়েক দফায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকছে। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর লোডশেডিংয়ের মাত্রা বেড়ে যায়, যা শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়।
পরিস্থিতির কারণে অনেক শিক্ষার্থীকে বাধ্য হয়ে কেরোসিনের বাতি বা মোমবাতির আলোয় পড়াশোনা করতে হচ্ছে। এতে যেমন পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে, তেমনি তৈরি হচ্ছে স্বাস্থ্যঝুঁকিও। একাধিক শিক্ষার্থী জানায়, পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য রাতের সময়টিই ছিল তাদের প্রধান ভরসা। কিন্তু ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে তারা পড়াশোনায় মনোযোগ ধরে রাখতে পারছে না, ফলে মানসিক চাপও বাড়ছে।
এদিকে অভিভাবকরাও বিষয়টি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের আশঙ্কা, বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে শিক্ষার্থীরা প্রত্যাশিত ফলাফল থেকে বঞ্চিত হতে পারে। দ্রুত লোডশেডিং সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে স্থানীয় বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তা শুগত চাকমা জানান, বাঘাইছড়ি উপজেলায় প্রায় ৮ হাজার ৫০০ গ্রাহকের জন্য দৈনিক প্রায় ৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ প্রয়োজন হলেও বর্তমানে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র দেড় মেগাওয়াট। ফলে আড়াই মেগাওয়াট বিদ্যুতের ঘাটতি পূরণে বাধ্য হয়ে প্রতি দুই থেকে তিন ঘণ্টা পরপর লোডশেডিং করতে হচ্ছে।