বাজারে সয়াবিন তেল উধাও, দাম বাড়াতে চাপ কোম্পানিগুলোর

অর্থনীতি ডেস্ক | দেশ এডিশন:
প্রকাশ: ২ ঘন্টা আগে

দেশের বিভিন্ন এলাকায় বোতলজাত সয়াবিন তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। বাজারে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, বেশিরভাগ দোকানেই এক লিটার, দুই লিটার কিংবা আধা লিটারের বোতলজাত তেল পাওয়া যাচ্ছে না। কোথাও কোথাও কেবল সীমিত পরিমাণে পাঁচ লিটারের বোতল পাওয়া যাচ্ছে।

বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ভোজ্যতেল সরবরাহকারী কোম্পানিগুলো সরবরাহ কমিয়ে দিয়ে দাম বাড়ানোর চাপ সৃষ্টি করছে। অভিযোগ রয়েছে, তারা সরকারের কাছে প্রতি লিটার তেলের দাম ১২ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে এবং এই প্রস্তাব বাস্তবায়ন না হলে সরবরাহ স্বাভাবিক করবে না বলে খুচরা ও পাইকারি বিক্রেতাদের জানাচ্ছে।

রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে একই চিত্র পাওয়া গেছে। একাধিক দোকানি জানান, কয়েকদিন ধরেই কোম্পানির পক্ষ থেকে তেল সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। বিক্রয় প্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা জানাচ্ছেন—দাম নির্ধারণ নিয়ে সরকারের সঙ্গে সমঝোতা না হওয়ায় কারখানা থেকে তেল ছাড়া হচ্ছে না।

ক্রেতাদের ভোগান্তিও বেড়েছে। অনেকেই একাধিক দোকান ঘুরেও তেল না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরছেন। নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন।

এদিকে বোতলজাত তেলের সংকটের প্রভাব পড়েছে খোলা তেলের বাজারেও। খোলা সয়াবিন তেলের দাম বেড়ে বর্তমানে ১৯৫ থেকে ২১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পাশাপাশি খোলা পাম তেলের দামও বেড়ে ১৭০ থেকে ১৯০ টাকায় পৌঁছেছে, যা আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি।

ব্যবসায়ীদের প্রস্তাব অনুযায়ী, এক লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম ২০৭ টাকা এবং পাঁচ লিটারের বোতলের দাম ১,০২০ টাকা নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে। বর্তমানে এক লিটার তেলের নির্ধারিত দাম ১৯৫ টাকা এবং পাঁচ লিটার ৯৫৫ টাকা।

তবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, বিশ্ববাজার বিশ্লেষণে বর্তমান দামই যৌক্তিক বলে মনে করা হচ্ছে এবং এ মুহূর্তে দাম বাড়ানোর প্রয়োজন নেই। বিষয়টি নিয়ে কোম্পানিগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে শিগগিরই বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সরবরাহ সংকট কৃত্রিম হলে তা দ্রুত সমাধান না করলে নিত্যপণ্যের বাজারে আরও অস্থিরতা তৈরি হতে পারে এবং সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়বে।

error: Content is protected !!