জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশগত নানা সংকটের মুখে বর্তমান বিশ্বে টেকসই উন্নয়ন ও পরিবেশ রক্ষা সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে পরিবেশের বিভিন্ন সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান এবং এর সামগ্রিক প্রভাব নিয়ে সম্প্রতি নানামুখী আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে জনস্বাস্থ্য, জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং প্রাকৃতিক সম্পদের টেকসই ব্যবহার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিবিড় পর্যালোচনার দাবি রাখে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টেকসই ভবিষ্যৎ বিনির্মাণে পরিবেশের প্রতিটি উপাদানের দিকে সুনির্দিষ্ট নজর দেওয়া প্রয়োজন।
শিল্পায়ন ও নগরায়ণের দ্রুত বিকাশের সাথে সাথে পরিবেশগত ভারসাম্যের বিষয়টি এখন অন্যতম প্রধান বিবেচ্য বিষয়। বায়ুমান, পানি ব্যবস্থাপনা এবং বর্জ্য নিষ্কাশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ সূচকগুলোতে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা না গেলে তার সরাসরি প্রভাব পড়ে জনস্বাস্থ্যের ওপর। সাম্প্রতিক বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় গবেষণায় দেখা গেছে, পরিবেশ দূষণের কারণে সৃষ্ট বিভিন্ন স্বাস্থ্য জটিলতা নাগরিক জীবনের কর্মক্ষমতা ও দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষাকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলছে। বিশেষ করে বড় শহরগুলোতে বায়ু ও শব্দ দূষণ প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি হয়ে পড়েছে।
একই সাথে দেশের সমৃদ্ধ জীববৈচিত্র্য রক্ষা করাও এক বড় চ্যালেঞ্জ। নদী-নালা, খাল-বিল এবং বনাঞ্চলের ওপর মানবসৃষ্ট ও প্রাকৃতিক চাপের কারণে অনেক দেশীয় প্রজাতি আজ অস্তিত্ব সংকটে ভুগছে। প্রাকৃতিক ইকোসিস্টেম বা বাস্তুতন্ত্রের এই পরিবর্তন কেবল জীববৈচিত্র্যের জন্যই নয়, বরং দেশের কৃষি ও খাদ্য সুরক্ষার জন্যও এক দীর্ঘমেয়াদি উদ্বেগের কারণ। সুন্দরবনসহ দেশের অন্যান্য প্রাকৃতিক অঞ্চলের বাস্তুসংস্থান রক্ষা করতে না পারলে প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলা করা আরও কঠিন হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এই পরিস্থিতি উত্তরণে পরিবেশবিদ ও নীতিনির্ধারকেরা সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ওপর জোর দিচ্ছেন। আইন প্রয়োগের কঠোরতা, পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি এবং ব্যাপক হারে বৃক্ষরোপণ ও জলাশয় ভরাটের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা তৈরি করা এখন সময়ের দাবি। টেকসই পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি খাত এবং সাধারণ নাগরিকদের যৌথ অংশগ্রহণই কেবল একটি সবুজ ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারে।