বুদ্ধপূর্ণিমা আজ: শান্তি, মৈত্রী ও সহাবস্থানের আহ্বান

নিজস্ব প্রতিবেদক:
প্রকাশ: ৩৭ minutes ago

দেশে ও বিশ্বজুড়ে বৌদ্ধধর্মাবলম্বীরা আজ শুক্রবার যথাযোগ্য মর্যাদা ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে উদ্‌যাপন করছেন পবিত্র বুদ্ধপূর্ণিমা। বৌদ্ধধর্ম মতে, প্রায় আড়াই হাজার বছর আগে এই বৈশাখী পূর্ণিমাতেই আবির্ভূত হন গৌতম বুদ্ধ। তাঁর শুভ জন্ম, বোধিলাভ ও মহাপরিনির্বাণ—এই তিন মহৎ ঘটনার স্মৃতিবিজড়িত দিনটি বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের কাছে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

বুদ্ধের জীবনদর্শন অহিংসা, সাম্য, মৈত্রী ও সহাবস্থানের ওপর প্রতিষ্ঠিত। তাঁর শিক্ষা অনুযায়ী, বৈরিতা দিয়ে বৈরিতা বা হিংসা দিয়ে হিংসার অবসান সম্ভব নয়; বরং করুণা ও অবৈরিতার মাধ্যমেই শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব। এই দর্শন আজও বিশ্বশান্তি ও মানবকল্যাণে প্রাসঙ্গিক বলে মনে করেন অনুসারীরা।

দিনটি উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন বৌদ্ধবিহারে বুদ্ধপূজা, শীল গ্রহণ, পিণ্ডদান এবং ভিক্ষু সংঘের প্রাতরাশসহ নানা ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। রাজধানীর আন্তর্জাতিক বৌদ্ধবিহারেও দিনব্যাপী কর্মসূচি পালিত হচ্ছে, যেখানে পূজা-অর্চনার পাশাপাশি আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে।

বুদ্ধপূর্ণিমা উপলক্ষে সরকারের পক্ষ থেকেও শুভেচ্ছা জানানো হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টা তারেক রহমান বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের নেতাদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করে বলেন, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে দেশের সব নাগরিকের শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি আরও বলেন, সব ধর্মই মানুষকে কল্যাণের পথে আহ্বান করে এবং পারস্পরিক সহমর্মিতা ও সম্প্রীতি বজায় রাখার শিক্ষা দেয়।

বৌদ্ধধর্মের পঞ্চশীল—প্রাণী হত্যা না করা, চুরি না করা, অসদাচরণ থেকে বিরত থাকা, মিথ্যা পরিহার করা এবং মাদকাসক্তি থেকে দূরে থাকা—মানবজীবনে নৈতিকতা ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার মূল ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত।

ধর্মীয় নেতারা আশা প্রকাশ করেছেন, বুদ্ধপূর্ণিমার এই বার্তা সমাজে শান্তি, সহনশীলতা ও বৈষম্যহীন সহাবস্থান নিশ্চিত করতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

error: Content is protected !!