
আগামী ২৮ জুন দেশব্যাপী অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন-২০২৬ সফলভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে মাগুরায় অবহিতকরণ ও পরিকল্পনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ বুধবার (২৪ জুন) সকালে সিভিল সার্জন অফিস, মাগুরার কনফারেন্স রুমে জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের আয়োজনে এবং সিভিল সার্জন কার্যালয়ের বাস্তবায়নে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন মাগুরার সিভিল সার্জন ডা. মো. শামীম কবির এবং সঞ্চালনা করেন মেডিকেল অফিসার ডা. এজাজ আহমেদ রোচি। এ সময় উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক (উপসচিব) ইমতিয়াজ হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) থান্দার খায়রুল হাসান (পিপিএম-সেবা), মাগুরা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মহসিন উদ্দিন ফকির, মেডিকেল অফিসার (কো-অর্ডিনেটর) ডা. দেবপ্রিয়া সরকার, সিনিয়র স্বাস্থ্য শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জিল্লুর রহমান, মাগুরা প্রেসক্লাবের সভাপতি অধ্যাপক সাইদুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম শফিকসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিবৃন্দ।
পরিকল্পনা সভায় মাগুরা জেলার সামগ্রিক টিকাদান কর্মসূচি ও লক্ষ্যমাত্রার একটি পরিসংখ্যান তুলে ধরা হয়: মাগুরা সদর উপজেলা: এই উপজেলায় মোট ৩১২টি কেন্দ্রে ৬-১১ মাস বয়সী ৪ হাজার ৫৩৮ জন এবং ১২-৫৯ মাস বয়সী ৩৪ হাজার শিশুসহ মোট ৩৮ হাজার ৫৩৮ শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ কার্যক্রমে ৬৬৩ জন মাঠকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবক এবং ৩৯ জন সুপারভাইজার দায়িত্ব পালন করবেন।
সার্বিক জেলা (মহম্মদপুর, শালিখা, শ্রীপুর ও পৌরসভাসহ): জেলার স্থায়ী ও আউটরিচ কেন্দ্র মিলিয়ে মোট ৯৪১টি কেন্দ্রে ৬-১১ মাস বয়সী ১৪ হাজার ৩৬৯ জন এবং ১২-৫৯ মাস বয়সী ১ লাখ ১৫ thousand ৩০৬ জন শিশুসহ মোট ১ লাখ ২৯ হাজার ৬৭৫ শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। এই বিশাল কার্যক্রমে ১ হাজার ৯৯৯ জন মাঠকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবক এবং ১১৭ জন সুপারভাইজার তদারকির দায়িত্বে থাকবেন।
সভায় ক্যাম্পেইনের ব্যাপক প্রচার-প্রচারণার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়। ইউনিয়ন পর্যায় থেকে শুরু করে পৌরসভার ওয়ার্ড পর্যায়ে মাইকিং কার্যক্রম জোরদার করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে গ্রামীণ হাট-বাজার ও জনবহুল এলাকায় ভ্রাম্যমাণ মাইকিংয়ের মাধ্যমে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনের বার্তা পৌঁছানোর ওপর তাগিদ দেন বক্তারা।
চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলেন, ভিটামিন ‘এ’ শিশুদের রাতকানা রোগ প্রতিরোধ, স্বাভাবিক শারীরিক বৃদ্ধি এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই ৬ থেকে ৫৯ মাস বয়সী সকল শিশুকে নির্ধারিত কেন্দ্রে নিয়ে গিয়ে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর জন্য অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, আগামী ২৮ জুন ২০২৬ (রবিবার) সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত দেশের সকল টিকাদান কেন্দ্রে ৬-১১ মাস বয়সী শিশুদের নীল রঙের (১ লাখ আইইউ) এবং ১২-৫৯ মাস বয়সী শিশুদের লাল রঙের (২ লাখ আইইউ) ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল সম্পূর্ণ বিনামূল্যে খাওয়ানো হবে।