মাত্র ১০ টাকায় প্রতি কেজি পণ্য পৌঁছে দেবে ডাক বিভাগ

আজমিরা খানম:
প্রকাশ: ১ ঘন্টা আগে

ডিজিটাল প্রযুক্তি এবং আধুনিক লজিস্টিকস অবকাঠামোগত উন্নয়নের মাধ্যমে সম্পূর্ণ নতুন, স্মার্ট ও গতিশীল রূপে আবির্ভূত হয়েছে বাংলাদেশ ডাক বিভাগ। ‘পণ্য আপনার, দায়িত্ব আমাদের’—এই মূল প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে দেশব্যাপী ডাক বিভাগের আধুনিক ‘স্পিড পোস্ট’ পার্সেল পরিবহন সেবা চালু করা হয়েছে। এই বিশেষ সেবার মাধ্যমে এখন ‘আজ বুকিং করলে আগামীকাল ঢাকা’ এবং দেশের যেকোনো প্রান্তে সর্বোচ্চ ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পার্সেল নিরাপদে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।

ডাক বিভাগের সেবার পরিধি ও সক্ষমতা বাড়াতে দেশব্যাপী প্রাথমিক পর্যায়ে ১১টি ফ্রাঞ্চাইজি মডেল পোস্ট অফিস পাইলট ভিত্তিতে চালু করা হচ্ছে। একই সঙ্গে দেশের ক্রমবর্ধমান ই-কমার্স খাতের লজিস্টিকস সাপোর্টের জন্য সারা দেশে ১৪টি সর্বাধুনিক ফুলফিলমেন্ট সেন্টার স্থাপন করা হচ্ছে, যা বাংলাদেশের পণ্য সরবরাহ বা লজিস্টিকস খাতে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে।

বাংলাদেশ ডাক বিভাগের স্পিড পোস্ট সেবার সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো এর অবিশ্বাস্য রকমের কম পরিবহন রেট, যা বাজারে থাকা যেকোনো বেসরকারি কুরিয়ার সার্ভিসের তুলনায় কয়েক গুণ সাশ্রয়ী। এই সেবায় প্রথম ১ কেজি পার্সেলের মাশুল মাত্র ১০ টাকা এবং পরবর্তী প্রতি কেজির জন্য মাত্র ৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

খুবই কম খরচে দ্রুত পার্সেল পাঠানোর এই সরকারি সুবিধা বিশেষ করে দেশের প্রান্তিক ও নারী ই-কমার্স উদ্যোক্তাদের ব্যবসায়ের খরচ কমিয়ে মুনাফা বাড়াতে বড় ধরনের ভূমিকা রাখছে। পার্সেল পাঠানোর আগে গ্রাহকেরা যাতে সহজেই খরচ হিসাব করতে পারেন, সে জন্য ডাক বিভাগ একটি ডিজিটাল ডাক মাশুল ক্যালকুলেটর চালু করেছে। গ্রাহকেরা নির্দিষ্ট লিংকে ভিজিট করে তাদের পার্সেলের ওজন অনুযায়ী মাশুল হিসাব করে নিতে পারছেন।

স্পিড পোস্টের আরেকটি আধুনিক ও গ্রাহকবান্ধব বৈশিষ্ট্য হলো এর ডিজিটাল ট্র্যাকিং সুবিধা। বুকিং করার পর প্রেরিত পার্সেলটি ঠিক কোন অবস্থানে রয়েছে, তা ঘরে বসেই অনলাইনে সরাসরি পর্যবেক্ষণ করতে পারছেন গ্রাহকেরা। ডাক বিভাগের অফিশিয়াল ট্র্যাকিং লিংকের মাধ্যমে গ্রাহকেরা ২৪ ঘণ্টা পার্সেলের হালনাগাদ তথ্য পাচ্ছেন।

দেশের প্রতিটি ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত বিস্তৃত ডাকঘরের বিশাল নেটওয়ার্কের কারণে যেকোনো প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে সহজেই পণ্য বুকিং ও বিতরণ করা সম্ভব হচ্ছে। দেশের সীমানা ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পার্সেল পাঠানোর জন্য রয়েছে বিশ্বস্ত ইএমএস (EMS) বা বৈদেশিক পার্সেল সেবা। আন্তর্জাতিক এই পার্সেলের অবস্থান ট্র্যাক করার জন্য রয়েছে গ্লোবাল লিংক।

গ্রাহকদের সুবিধার জন্য ডাক বিভাগ অত্যন্ত সহজ বুকিং প্রক্রিয়া নিশ্চিত করেছে। গ্রাহককে শুধু তাঁর কাছের নির্ধারিত ডাকঘরে পণ্য বা পার্সেলটি নিয়ে আসতে হবে। কাউন্টারে বুকিং মাশুল পরিশোধ করার পরপরই গ্রাহককে একটি ইউনিক ট্র্যাকিং নম্বরসহ অফিশিয়াল রসিদ দেওয়া হয়। এরপর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে (ঢাকায় ২৪ ঘণ্টা, ঢাকার বাইরে ৪৮ ঘণ্টা) পার্সেলটি প্রাপকের ঠিকানায় পৌঁছে যাচ্ছে। সরকারি এই আধুনিক উদ্যোগের ফলে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা অত্যন্ত স্বল্প খরচে বিশ্বস্ত কুরিয়ার সেবা পাচ্ছেন, যা দেশের ডিজিটাল অর্থনীতিকে আরও সমৃদ্ধ করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

error: Content is protected !!