জাতীয় সংসদে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এবং বিরোধীদলীয় নেতাকে নিয়ে সরকারদলীয় সংসদ সদস্য ফজলুর রহমানের দেওয়া বক্তব্যের কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা পরিষদ। সংগঠনটির ৭০ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা এক যৌথ বিবৃতিতে এই বক্তব্যকে ‘অসংসদীয়’ এবং ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পরিপন্থী’ বলে আখ্যায়িত করেছেন।
বুধবার গণমাধ্যমে পাঠানো ওই বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা পরিষদের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা ইঞ্জিনিয়ার মোসলেম উদ্দিন, সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. ফজলুল হক এবং সেক্রেটারি জেনারেল বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. তাজিরুল ইসলামসহ রণাঙ্গনের ৭০ জন যোদ্ধা।
বিবৃতিতে বলা হয়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের মঙ্গলবারের অধিবেশনে এমপি ফজলুর রহমান মন্তব্য করেন যে, কোনো মুক্তিযোদ্ধা বা শহীদ পরিবারের সদস্য জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতির সাথে যুক্ত হতে পারবেন না। এটিকে ডাবল অপরাধ বলেও আখ্যা দেন তিনি।
এর কড়া সমালোচনা করে মুক্তিযোদ্ধা পরিষদের নেতারা জানান, ১৯৭১ সালে জিয়াউর রহমানের আহ্বানে তারা মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন। দেশ স্বাধীনের পর গণতান্ত্রিক চর্চার অংশ হিসেবে মুক্তিযোদ্ধারা নিজেদের রাজনৈতিক মতাদর্শ অনুযায়ী আওয়ামী লীগ, জাসদ, জাতীয় পার্টি, বিএনপি এবং জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন দলে যোগ দিয়েছেন। একটি স্বাধীন দেশের নাগরিক হিসেবে দেশের সার্বভৌমত্বের পক্ষে থাকা যেকোনো রাজনৈতিক মতাদর্শের সাথে যুক্ত হওয়া মানুষের স্বাভাবিক ও সাংবিধানিক অধিকার।
এ সময় তারা এমপি ফজলুর রহমানের রাজনৈতিক অতীত এবং মুক্তিযুদ্ধে তার ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, ফজলুর রহমান নিজেই আদর্শ বিসর্জন দিয়ে একাধিক দল পরিবর্তন করেছেন। এছাড়া, কিশোরগঞ্জের কোম্পানি কমান্ডার আইয়ুব বিন হায়দারের বরাত দিয়ে তারা দাবি করেন, মহান মুক্তিযুদ্ধে ফজলুর রহমান সরাসরি কোনো অস্ত্র হাতে নেননি এবং তিনি কোনো কোম্পানির কমান্ডারও ছিলেন না।
জাতীয় সংসদকে আইন প্রণয়ন ও রাষ্ট্র পরিচালনার গুরুত্বপূর্ণ স্থান হিসেবে উল্লেখ করে বীর মুক্তিযোদ্ধারা বলেন, সংসদ কখনো ব্যক্তিগত বা দলীয় বিদ্বেষ ছড়ানোর কিংবা আক্রমণাত্মক ভাষা প্রয়োগের জায়গা হতে পারে না।
সবশেষে দেশে বিভাজনের রাজনীতি পরিহার করার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি। তারা বলেন, চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষার আলোকে সংবিধান সংস্কার করে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর দেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। অন্যথায় বাংলাদেশ আবারো স্বৈরতান্ত্রিক ও ফ্যাসিস্ট শাসনের দিকে ধাবিত হতে পারে, যা কারো জন্যই সুফল বয়ে আনবে না।
(বিবৃতিতে সংগঠনটির শীর্ষ নেতৃবৃন্দসহ মোট ৭০ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা স্বাক্ষর করেন, যাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন- মো. আবদুল ওয়ারেছ, ডা. আলতাফ হোসেন, মো. শাহাবুদ্দিন, মো. মতিউর রহমান প্রমুখ।)
বিবৃতিতে সই করা বীর মুক্তিযোদ্ধারা হলেন-
১. ইঞ্জিনিয়ার মোসলেম উদ্দিন, সভাপতি, জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা পরিষদ, ঢাকা
২. মো. ফজলুল হক, সিনিয়র সহ-সভাপতি, জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা পরিষদ, ঢাকা
৩. মো. আবদুল ওয়ারেছ, সহ-সভাপতি, জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা পরিষদ, ঢাকা
৪. ডা. আলতাফ হোসেন সহ-সভাপতি, জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা পরিষদ, ঢাকা
৫. মো. শাহাবুদ্দিন, সহ-সভাপতি, জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা পরিষদ, ঢাকা
৬. মো. মতিউর রহমান, সহ-সভাপতি, জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা পরিষদ, ঢাকা
৭. মো. তাজিরুল ইসলাম সেক্রেটারি জেনারেল, জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা পরিষদ, ঢাকা
৮. বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. শামসুদ্দিন মিয়া
৯. বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. বোরহান উদ্দিন
১০. বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল করিম
১১. বীর মুক্তিযোদ্ধা মোকাররম হোসেন
১২. বীর মুক্তিযোদ্ধা কামাল উদ্দিন
১৩. বীর মুক্তিযোদ্ধা হাফিজ উদ্দিন
১৪. বীর মুক্তিযোদ্ধা আহসান উল্লাহ পাটোয়ারী
১৫. বীর মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ার হোসেন
১৬. বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুল হামিদ
১৭. বীর মুক্তিযোদ্ধা দৌলত আহমেদ
১৮. বীর মুক্তিযোদ্ধা নূর মোহাম্মদ
১৯. বীর মুক্তিযোদ্ধা নজরুল ইসলাম বকসী
২০. বীর মুক্তিযোদ্ধা হুমায়ুন কবির
২১. বীর মুক্তিযোদ্ধা মোকসেদ আলী প্রধান
২২. বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস ছাত্তার
২৩. বীর মুক্তিযোদ্ধা একরামুল হক
২৪. বীর মুক্তিযোদ্ধা ওমর ফারুক
২৫. বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুজ্জামান
২৬. বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাকিম
২৭. বীর মুক্তিযোদ্ধা শফিকুর রহমান
২৮. বীর মুক্তিযোদ্ধা ডি. এস. শাহজাহান
২৯. বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. নাছিম
৩০. বীর মুক্তিযোদ্ধা রমজান আলী
৩১. বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম আজাদ
৩২. বীর মুক্তিযোদ্ধা জহুরুল হক
৩৩. বীর মুক্তিযোদ্ধা খন্দকার নাসির উদ্দিন নাসিম
৩৪. বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আজিজুর রহমান
৩৫. বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ গোলাম মস্তফা
৩৬. বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. এম. এ. সাত্তার
৩৭. বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. রমজান আলী
৩৮. বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. তোফাজ্জল হোসেন হেলাল
৩৯. বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. সোহরাব উদ্দিন খান
৪০. বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. জয়নাল আবেদীন
৪১. বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুর রশিদ রাসু
৪২. বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. সাদেক আলী
৪৩. বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. সানাউল্লাহ সরদার
৪৪. বীর মুক্তিযোদ্ধা ইঞ্জিনিয়ার আবদুল কাদের
৪৫. বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুস সামাদ
৪৬. বীর মুক্তিযোদ্ধা আকমল হোসেন
৪৭. বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবুল কাশেম বিশ^াস
৪৮. বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুস সামাদ
৪৯. বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. গোলাম রব্বানী
৫০. বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. আব্দুল মজিদ
৫১. বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আইয়ুব আলী
৫২. বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুল খালেক
৫৩. বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আমজাদ হোসেন
৫৪. বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল কাদের
৫৫. বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসেন
৫৬. বীর মুক্তিযোদ্ধা শামসুল হক
৫৭. বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহ আলম প্রধান
৫৮. বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল খালেক
৫৯. বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ শাহজাহান
৬০. বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলে রাব্বি
৬১. বীর মুক্তিযোদ্ধা মোজাম্মেল হক ভূঁইয়া
৬২. বীর মুক্তিযোদ্ধা হাজী এনায়েত উল্লাহ
৬৩. বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদুল্লাহ
৬৪. বীর মুক্তিযোদ্ধা শামসুল হক
৬৫. বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল হাশেম
৬৬. বীর মুক্তিযোদ্ধা হাফেজ আহছান উল্লাহ
৬৭. বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু সাঈদ
৬৮. বীর মুক্তিযোদ্ধা অলি মিয়া
৬৯. বীর মুক্তিযোদ্ধা হামিদুল হক
৭০. বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসেন মল্লিক