ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাসের নাম ব্যবহার করে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং কিছু অনানুষ্ঠানিক মাধ্যমে মার্কিন ভিসা প্রত্যাশীদের সোশ্যাল মিডিয়া প্রোফাইল ‘পাবলিক’ বা উন্মুক্ত করার যে দাবি করা হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর বা ঢাকার দূতাবাস থেকে ভিসা আবেদনকারীদের ব্যক্তিগত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রাইভেসি সেটিংস উন্মুক্ত করার কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখিত তারিখ (৩০ মার্চ) এবং ভিসার ক্যাটাগরিগুলো (A-3, G-5, H, K, R ইত্যাদি) মূলত মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের অন্য একটি আন্তর্জাতিক নিয়মের সাথে সম্পর্কিত।
যুক্তরাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী, নির্দিষ্ট কিছু ক্যাটাগরির (বিশেষ করে গৃহকর্মী, অস্থায়ী কর্মী ও বাগদত্তা/বাগদত্তী) ভিসা আবেদনকারীদের অধিকার রক্ষার জন্য একটি বিশেষ পুস্তিকা (Rights and Protections Pamphlet) সরবরাহ করা হয়। এই পুস্তিকাটি তারা পড়েছেন এবং বুঝেছেন—তা নিশ্চিত করার একটি নিয়ম কার্যকর রয়েছে, যার সাথে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রাইভেসি সেটিংসের কোনো সম্পর্ক নেই।
গুরুত্বপূর্ণ নোট: ২০১৯ সাল থেকেই মার্কিন অনভিবাসী ভিসা আবেদন ফর্মে (DS-160) বিগত ৫ বছরের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ইউজারনেম বা হ্যান্ডেল (Handle) উল্লেখ করার নিয়ম বাধ্যতামূলক। তবে এর অর্থ এই নয় যে আবেদনকারীকে তার প্রোফাইলের প্রাইভেসি সেটিংস ‘পাবলিক’ করতে হবে।
ভিসা প্রক্রিয়া নিয়ে যেকোনো ধরনের বিভ্রান্তি এড়াতে মার্কিন দূতাবাসের পক্ষ থেকে সবসময় অফিশিয়াল ওয়েবসাইট অনুসরণের পরামর্শ দেওয়া হয়। বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী:
সোশ্যাল মিডিয়া তথ্য: DS-160 ফর্মে শুধুমাত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্টের নাম বা ইউজারনেম দিতে হয়। পাসওয়ার্ড বা প্রাইভেসি পলিসি পরিবর্তনের কোনো প্রয়োজন নেই।
সঠিক তথ্যের উৎস: মার্কিন ভিসা সংক্রান্ত যেকোনো পরিবর্তন বা নতুন ঘোষণা শুধুমাত্র মার্কিন দূতাবাসের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট (bd.usembassy.gov) এবং তাদের অনুমোদিত ভিসা অ্যাপ্লিকেশন সেন্টারের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়।
ভিসা প্রার্থীরা যেন কোনো ধরনের গুজবে কান না দেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অপপ্রচারে বিভ্রান্ত হয়ে নিজেদের ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টের নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে না ফেলেন, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।
আপনি যদি কোনো গণমাধ্যম বা ব্লগের জন্য এই সংবাদটি প্রকাশ করতে চান, তবে উপরোক্ত প্রতিবেদনটি হুবহু ব্যবহার করতে পারেন। এটি পাঠককে সঠিক তথ্য দেবে এবং গুজব ছড়ানো প্রতিরোধ করবে।