
দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, ভবিষ্যৎ সাংগঠনিক রূপরেখা এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিশ্রুতিসমূহ সুচারুভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এক দীর্ঘ ও খোলামেলা আলোচনা করেছে বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম স্থায়ী কমিটি। গতকাল শনিবার রাতে রাজধানীর গুলশানে দলীয় চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে এই বিশেষ পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। ২০২৬ সালের সাধারণ নির্বাচনের পর এটি দলটির স্থায়ী কমিটির তৃতীয় আনুষ্ঠানিক বৈঠক।
রাত ৮টায় শুরু হয়ে প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী চলমান এই গুরুত্বপূর্ণ সভায় সভাপতিত্ব করেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৈঠকের প্রারম্ভে তাঁর সাম্প্রতিক মালয়েশিয়া ও চীন সফর সফলভাবে সম্পন্ন করায় স্থায়ী কমিটির সদস্যবৃন্দ তাঁকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান এবং সম্মাননা স্মারক হিসেবে একটি ক্রেস্ট তুলে দেন।
দলীয় সূত্র অনুযায়ী, বৈঠকে সাংগঠনিক কাঠামোকে আরও গতিশীল করতে চলতি বছরের শেষভাগে দলের জাতীয় কাউন্সিল আয়োজনের বিষয়ে স্থায়ী কমিটির অধিকাংশ সদস্য ইতিবাচক অভিমত ব্যক্ত করেছেন। দলীয় চেয়ারম্যান তারেক রহমানও নিয়মিত কাউন্সিল আয়োজনের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এর পাশাপাশি যেসব জেলা, মহানগর ও অন্যান্য সহযোগী ইউনিটের বর্তমান কমিটির মেয়াদ পূর্ণ হয়েছে, সেগুলো দ্রুত ও নিয়মতান্ত্রিকভাবে পুনর্গঠন করার তাগিদ দেওয়া হয়, যাতে তৃণমূলে নতুন নেতৃত্ব বিকাশের পথ সুগম হয়।
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে কেন্দ্র করেও বৈঠকে বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হয়। নেতৃবৃন্দ মনে করেন, আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক পর্যায়। এজন্য এখন থেকেই তৃণমূল পর্যায়ে সাংগঠনিক প্রস্তুতি জোরদার করা এবং নির্বাচনের উপযোগী সুসংগঠিত কাঠামো গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। বৈঠকে পূর্ববর্তী সময়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন বক্তব্য ও নির্বাচন শুরুর সম্ভাব্য সময়সূচি নিয়ে আলোচনা হলেও চূড়ান্ত দিনক্ষণ নির্ধারণের বিষয়টি ভবিষ্যৎ পারিপার্শ্বিকতার ওপর ন্যস্ত রাখা হয়েছে।
বৈঠকে দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সরকারের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতিসমূহের বাস্তব অগ্রগতি নিয়ে গভীর মূল্যায়ন করা হয়। বিশেষ করে জনগণের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছানোর অংশ হিসেবে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং কৃষি উৎপাদনে সহায়তাকল্পে দেশব্যাপী খাল পুনঃখনন কর্মসূচির বর্তমান চিত্র নিয়ে নেতৃবৃন্দ সন্তোষ প্রকাশ করেন। যেসকল লক্ষ্যমাত্রা এখনও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে, সেগুলো দ্রুত সম্পন্ন করার জন্য কৌশলগত গাইডলাইন তৈরি করতে বলা হয়েছে।
এছাড়া, অতীতে দীর্ঘ সময় জীবিকার সুযোগ থেকে দূরে থাকা নাগরিকদের পুনর্বাসন এবং অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার বিষয়ে নীতিগত আলোচনা হয়। স্থায়ী কমিটির নেতৃবৃন্দ দৃঢ়ভাবে ব্যক্ত করেন যে, রাষ্ট্রীয় কর্মসংস্থান বা সেবার ক্ষেত্রে কেবল রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা না করে সম্পূর্ণ যোগ্যতা, দক্ষতা ও মেধার ভিত্তিতে মূল্যায়ন নিশ্চিত করা হবে, যা একটি টেকসই প্রশাসনিক ব্যবস্থা গঠনে ভূমিকা রাখবে। একই সাথে দেশের বর্তমান আবহাওয়া ও জলজট পরিস্থিতির নিরিখে সামাজিক ত্রাণ কার্যক্রম আরও বেগবান করতে নেতাকর্মীদের সক্রিয় থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়।
উক্ত বৈঠকে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির প্রবীণ সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বেগম সেলিমা রহমান এবং ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু উপস্থিত ছিলেন।