
গণভোটের গণরায় দ্রুত কার্যকর করা এবং ‘জুলাই সনদ’ শতভাগ বাস্তবায়নের দাবিতে শেরপুরে বিশাল গণমিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে ১১ দলীয় জোট। আজ শনিবার জেলা শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে এই কর্মসূচি পালন করা হয়।
দুপুরে জেলা প্রশাসক (ডিসি) কার্যালয়ের সামনে থেকে ১১ দলীয় জোটের ব্যনারে গণমিছিলটি শুরু হয়। মিছিলটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক, কলেজ মোড় এবং শহীদ বুলবুল সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় ডিসি গেটের সামনে এসে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জামায়াতে ইসলামীর শেরপুর জেলা আমীর ও ১১ দলীয় জোটের অন্যতম শীর্ষ নেতা মাওলানা হাফিজুর রহমান। তিনি তাঁর বক্তব্যে সরকারের নীতি নির্ধারণী মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, “বর্তমান সরকারের মন্ত্রী পরিষদ থেকে শুরু করে শীর্ষ নেতৃবৃন্দ দফায় দফায় বলছেন যে জুলাই সনদের প্রত্যেকটি অক্ষর বাস্তবায়ন করা হবে। আমরা তাদের এই ইতিবাচক বক্তব্যকে স্বাগত জানাই এবং অবিলম্বে এর দৃশ্যমান বাস্তবায়ন দাবি করছি।”
তিনি আরও যোগ করেন, “জুলাই সনদ এদেশের আপামর মানুষ ‘হ্যাঁ’ ভোটের মাধ্যমে স্বতঃস্ফূর্তভাবে গ্রহণ করে নিয়েছে। দেশের ৭০% মানুষ এই ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে স্পষ্ট রায় দিয়েছে। যেখানে মাত্র ৫১% মানুষের রায় নিয়ে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসেছে, সেখানে ৭০% মানুষের এই বিশাল ও ঐতিহাসিক রায়কে অবশ্যই সরকারকে সর্বোচ্চ মূল্যায়ন করতে হবে।”
সমাবেশে বিশেষ বক্তা হিসেবে অত্যন্ত আক্রমণাত্মক বক্তব্য রাখেন শেরপুর জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি ও শেরপুর-২ আসনের মনোনীত প্রার্থী গোলাম কিবরিয়া ডিপি। বিগত দিনের আন্দোলন-সংগ্রামে বিএনপির মাঠের ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা করে তিনি বলেন, “আপনারা ২০০৮ সালের নির্বাচনের পর ১৪-এর নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন নাই। ১৪-এর গণআন্দোলনে আপনাদের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ যখন ঘরে বসা ছিল, তখন আমাদের লক্ষ লক্ষ নেতাকর্মী জীবন বাজি রেখে রাজপথে ছিল। আমাদের শহীদ মনসুর ভাই মালিবাগ হোটেলের সামনে শাহাদাত বরণ করেছেন। অথচ তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব (যিনি বর্তমান এলজিআরডি মন্ত্রী) পুলিশকে বলেছিলেন গাড়ি ঘোরাও, অফিসে চলে যাই। এই হলো আপনাদের বিরোধী দলের রাজপথের ভূমিকা।”
একই সুর মিলিয়ে কর্মপরিষদ সদস্য ডক্টর আনোয়ার হোসেন তাঁর বক্তব্যে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এই ৭০ ভাগ ভোটদাতাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে, মাত্র ৫১% ভোট পেয়ে বিএনপি ক্ষমতায় গিয়ে জনগণের সাথে এক ধরণের বেইমানি শুরু করেছে।”
জাতীয় নির্বাচনের দিনে অনুষ্ঠিত গণভোটের রায় নিয়ে সরকারের বর্তমান অবস্থানের সমালোচনা করেন শেরপুর জেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মাযহারুল ইসলাম মিল্লাদ। তিনি বলেন, “নির্বাচনের দিনে গণভোটে ৭০ ভাগ লোক ‘হ্যাঁ’ পক্ষে ভোট দেওয়ার পরও সরকার এটি বাস্তবায়নে নানা রকম তালবাহানা শুরু করেছে, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়।”
সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন—শেরপুর জেলা এনসিপি-এর সদস্য সচিব নূর ইসলাম, শেরপুর পৌরসভা জামায়াতের সেক্রেটারি ডা. হাসানুজ্জামানসহ ১১ দলীয় জোটের স্থানীয় ও জেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ। সমাবেশ থেকে জোটের নেতারা চূড়ান্ত হুশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, সরকার যদি অবিলম্বে জনগণের এই গণভোটের রায় ও জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করে, তবে আগামীতে সাধারণ মানুষকে সাথে নিয়ে সারা দেশে একযোগে কঠোর ও রাজপথের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।