সিরাজগঞ্জে উন্নয়ন সহায়তা ও অনুদান সামগ্রী বিতরণ

খোরশেদ আলম খসরু (সিরাজগঞ্জ):
প্রকাশ: ১ ঘন্টা আগে

স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন, শিক্ষার পরিবেশ আধুনিকায়ন এবং প্রান্তিক মানুষের টেকসই প্রবৃদ্ধি নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলায় সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন সহায়তা ও প্রাতিষ্ঠানিক অনুদান সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন তহবিল (এডিবি), রাজস্ব খাত এবং প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহায়তা কর্মসূচির যৌথ অর্থায়নে এই সামগ্রীসমূহ প্রদান করা হয়।

গত শনিবার (১১ জুলাই) সকালে বেলকুচি উপজেলা অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে বেলকুচি-চৌহালী আসনের সংসদ সদস্য আমিরুল ইসলাম খান আলীম প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বিভিন্ন ইউনিয়নের সুধীজন ও উপকারভোগীদের হাতে এই রাষ্ট্রীয় অনুদান তুলে দেন।

আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য আমিরুল ইসলাম খান আলীম বলেন, বর্তমান সরকার দেশের সামগ্রিক পরিকাঠামোগত উন্নয়ন ও জনগণের কল্যাণে নিয়মতান্ত্রিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। সমাজের পিছিয়ে পড়া নাগরিকদের স্বাবলম্বী করা এবং সমতাভিত্তিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রীয় এই সহায়তা কর্মসূচি আগামীতেও সচল থাকবে। তিনি সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড মাঠপর্যায়ে সফলভাবে বাস্তবায়নের জন্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা কামনা করেন।

বেলকুচি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আফরিন জাহানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার শাহনাজ প্রধান। এ সময় উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, শিক্ষক, স্থানীয় সুধীসমাজ ও জনপ্রতিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠান শেষে প্রধান অতিথির মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ তহবিল থেকে অঞ্চলের ১৩টি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নকল্পে মোট ৫০ লাখ টাকার আর্থিক অনুদান বিতরণ করা হয়। পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় বিভিন্ন ইউনিয়নে ফলজ, বনজ ও ওষধি গাছের ৫ হাজার চারা রোপণের জন্য বিতরণ করা হয়। একই সাথে জাতীয় সংসদের স্পিকারের পক্ষ থেকে ৬১ জন সুবিধাভোগীর মাঝে ১ লাখ ৮৩ হাজার টাকা এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতায় ২০টি বিশেষ পরিবারের হাতে ২ লাখ টাকার চেক তুলে দেওয়া হয়। এছাড়া বিশেষ জরুরি সহায়তা হিসেবে আরও ২০টি পরিবারের মাঝে ৪ লাখ টাকা নগদ বিতরণ করা হয়।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে ২১টি ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানের জন্য ৬০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। চরাঞ্চলের শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে শিক্ষার্থীদের জন্য ৩০০টি স্কুলব্যাগ, বিভিন্ন ইউনিয়নে ৬টি সোলার প্যানেল এবং কর্মক্ষম ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন বেকার যুবকদের আত্মকর্মসংস্থানের লক্ষ্যে ভ্যানসহ ৬টি সুসজ্জিত দোকানঘর প্রদান করা হয়।

শ্রেণিকক্ষের পরিবেশ উন্নত করার লক্ষ্যে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আওতায় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ৫০ জোড়া এবং রাজস্ব খাত থেকে আরও ১০০ জোড়া কাঠের বেঞ্চ নিয়মতান্ত্রিকভাবে হস্তান্তর করা হয়। পাশাপাশি শারীরিক সুরক্ষায় ২০টি বিশেষ হুইলচেয়ার, বিভিন্ন শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে ১২০টি সিলিং ফ্যান এবং সুপেয় পানির অভাব দূরীকরণে ১২টি নলকূপ সফলভাবে বিতরণ করা হয়েছে। উপস্থিত স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও উপকারভোগীরা সরকারের এই জনকল্যাণমুখী উদ্যোগকে গ্রামীণ অর্থনীতি সচল করার ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক হিসেবে অভিহিত করেছেন।

error: Content is protected !!