হাসানুল হক ইনুর ১০ বছরের কারাদণ্ড

আদালত প্রতিবেদক (দেশ এডিশন):
প্রকাশ: ১ ঘন্টা আগে

কুষ্টিয়া অঞ্চলে সংঘটিত সংঘাত এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দোষী সাব্যস্ত করে সাবেক তথ্যমন্ত্রী ও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনুকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। কারাদণ্ডের পাশাপাশি আদালত তাঁকে ১ লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও অতিরিক্ত মেয়াদের সাজার নির্দেশ প্রদান করেছেন।

আজ মঙ্গলবার (৩০ জুন) দুপুর আড়াইটার দিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন। প্যানেলের অপর দুই বিচারিক সদস্য হলেন— বিচারক মঞ্জুরুল বাছিত এবং বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবির। এর আগে গত ২২ জুন ট্রাইব্যুনাল আজকের দিনটিকে রায় ঘোষণার জন্য সুনির্দিষ্টভাবে ধার্য করেছিলেন।

মামলার নথি ও প্রসিকিউশনের বিবরণ অনুযায়ী, সাবেক সরকারের শরিক দল এবং ১৪ দলীয় জোটের অন্যতম শীর্ষ নেতা হিসেবে হাসানুল হক ইনু নীতি নির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক সিদ্ধান্তের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত ছিলেন। ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম মামলার শুনানিতে জানান, ২০ blankets ২৪ সালের আগস্টে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর কিছু গুরুত্বপূর্ণ ফোনালাপ হয়। সেই সব কথোপকথনের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে ডাইভার্ট করার কৌশল, বিশেষ ট্যাগ ব্যবহার এবং রাজনৈতিক নিপীড়ন চালানোর সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ও পরামর্শের প্রমাণ পাওয়া গেছে।

চিফ প্রসিকিউটর আরও জানান, “আমরা এই মামলায় ইনুর বিরুদ্ধে মোট ১০ জন প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী উপস্থাপন করেছি এবং ডিজিটাল ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া কথোপকথনের ভিডিও রেকর্ড ট্রাইব্যুনালে পেশ করেছি। সেখানে আমরা তথ্য-প্রমাণ দিয়ে পরিষ্কারভাবে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছি যে, রাজনৈতিক নেতা হিসেবে তিনি জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করার নানা কৌশলের সঙ্গে জড়িত ছিলেন, যার ফলে বহু মানুষের জীবনহানির ঘটনা ঘটেছিল।”

এর আগে গত বছরের ২ নভেম্বর হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের আটটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগে আনুষ্ঠানিক বিচার কাজ শুরুর আদেশ দিয়েছিল ট্রাইব্যুনাল। পরবর্তীতে ১ ডিসেম্বর থেকে মামলার মূল সাক্ষ্যগ্রহণ পর্ব শুরু হয়ে চলতি বছরের ১০ মার্চ শেষ হয়। এই সময়ের মধ্যে ট্রাইব্যুনালে এসে জবানবন্দি ও জেরা সম্পন্ন করেন ১০ জন সাক্ষী।

পরবর্তীতে গত ২ এপ্রিল থেকে ইনুর পক্ষে ট্রাইব্যুনালে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু করেন তাঁর প্রধান আইনজীবী মুনসুরুল হক চৌধুরী। টানা ৯ কার্য দিবস ধরে আসামিপক্ষের যুক্তি পেশ করার পর রাষ্ট্রপক্ষের পক্ষ থেকে এর কাউন্টার যুক্তি ও আইনি ব্যাখ্যা তুলে ধরা হয়। গত ১৪ মে উভয় পক্ষের দীর্ঘ আইনি যুক্তিতর্ক ও সওয়াল-জবাবের শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ (সিএভি) রেখেছিলেন। আজ দুপুরের রায়ের মাধ্যমে দীর্ঘ এই আইনি প্রক্রিয়ার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি ঘটল।

error: Content is protected !!