
গত কয়েকদিনের টানা অতি বৃষ্টিপাতের কারণে কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার হোয়ানক ইউনিয়নের বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকায় ব্যাপক পাহাড়ধসের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। উদ্ভূত এই জরুরি পরিস্থিতিতে ইউনিয়নের প্রতিটি ওয়ার্ডের ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি ঢাল ও পাদদেশে বসবাসকারী সাধারণ মানুষকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইমরান মাহামুদ ডালিম।
মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি সরেজমিনে নিখুঁতভাবে পর্যবেক্ষণের জন্য তিনি আজ হোয়ানক ইউনিয়নের বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনকালে তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আবু জাফর মজুমদার এবং হোয়ানক ইউনিয়ন সিপিপির (ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচি) অন্যতম সদস্য মারুফ উদ্দিন।
পরিদর্শন শেষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইমরান মাহামুদ ডালিম সাংবাদিকদের বলেন, “টানা ভারী বর্ষণের ফলে পাহাড়ের মাটির বাঁধন আলগা হয়ে ধসের ঝুঁকি অনেক বেড়ে গেছে। যেসব পরিবার পাহাড়ের ঝুঁকিপূর্ণ ঢালু অংশ বা পাদদেশে অত্যন্ত ঝুঁকিতে বসবাস করছেন, তাদের এখন বিশেষ সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ধরনের ফাটল বা ধসের লক্ষণ দেখা দেওয়া মাত্রই কালবিলম্ব না করে দ্রুত নিকটস্থ নিরাপদ স্থানে বা আশ্রয়কেন্দ্রে সরে যেতে হবে।” একই সঙ্গে তিনি যেকোনো জরুরি প্রয়োজনে স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও সিপিপি স্বেচ্ছাসেবকদের সাথে তাৎক্ষণিক যোগাযোগ করার আহ্বান জানান।
তিনি স্থানীয় বাসিন্দাদের আশ্বস্ত করে আরও বলেন, উপজেলা প্রশাসন সার্বক্ষণিকভাবে আবহাওয়া ও পাহাড়ের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখাসহ প্রয়োজনীয় সব ধরনের জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণে প্রশাসন সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে। এ সময় তিনি স্থানীয়দের কোনো ধরনের গুজবে কান না দিয়ে কেবল সরকারি নির্দেশনা মেনে চলার অনুরোধ জানান।
পরিদর্শনকালে উপজেলা ভূমি কর্মকর্তা আবু জাফর মজুমদার ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করে স্থানীয় প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন। অন্যদিকে, সিপিপির সদস্য মারুফ উদ্দিন স্থানীয় বাসিন্দাদের দ্রুত সচেতন হওয়ার তাগিদ দিয়ে বলেন, “যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এককভাবে মোকাবিলা করা সম্ভব নয়, সবাইকে একসাথে কাজ করতে হবে। জরুরি পরিস্থিতিতে নিজে নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার পাশাপাশি অন্য প্রতিবেশীদেরও দ্রুত স্থানান্তরে সহযোগিতা করতে হবে।”
মহেশখালী উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে চূড়ান্ত সতর্কবার্তায় জানানো হয়েছে, আবহাওয়া পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত পাহাড়ি এলাকার বাসিন্দাদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে এবং প্রয়োজন হওয়া মাত্রই সরকারি আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিতে হবে।