র‍্যাব ক্যাম্প এলাকায় ব্যবসায়ীর গরু ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ

দেশ এডিশন অনলাইন ডেস্ক:
প্রকাশ: ১১ ঘন্টা আগে

পবিত্র ঈদুল আজহা ঘনিয়ে আসতেই সক্রিয় হয়ে উঠেছে পশুর খামারি ও মৌসুমি ব্যবসায়ীদের টার্গেট করা ছিনতাইকারী চক্র। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফেনীর রামপুর এলাকায় খোদ র‍্যাব ও পুলিশ ক্যাম্পের সন্নিকটে প্রকাশ্য দিবালোকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে এক ব্যবসায়ীর গরু ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। আজ শনিবার (২৩ মে) ভোর আনুমানিক ৫টার দিকে এই দুঃসাহসিক ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। এই ঘটনার পর থেকে ওই এলাকায় অবস্থানরত দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা পশুর ব্যবসায়ীদের মাঝে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

ঘটনাটি যেভাবে ঘটল
​ক্ষতিগ্রস্ত গরু ব্যবসায়ী দেলোয়ার হোসেন জানান, আসন্ন ঈদুল আজহায় বিক্রির উদ্দেশ্যে পরিচিতদের কাছ থেকে চড়া সুদে ও আত্মীয়দের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে তিনি ১০টি গরু কিনেছিলেন। বিক্রির জন্য গরুগুলো এনে তিনি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফেনীর রামপুর এলাকায় র‍্যাব ক্যাম্প সংলগ্ন ফাঁকা স্থানে বেঁধে রেখেছিলেন এবং নিজেই সেখানে রাত জেগে পাহারা দিচ্ছিলেন।

​ভোর ৫টার দিকে হঠাৎ করে ধারালো অস্ত্রে সজ্জিত ৪-৫ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল সেখানে হানা দেয়। তারা ব্যবসায়ী দেলোয়ারের গলায় ও বুকে অস্ত্র ঠেকিয়ে জিম্মি করে ফেলে এবং একটি বড় গরু জোরপূর্বক টেনে হিঁচড়ে তাদের সাথে আনা একটি ট্রাকে/গাড়িতে তুলে নেয়। দেলোয়ার হোসেনের চিৎকার শুনে আশেপাশের অন্য ব্যবসায়ী ও স্থানীয় লোকজন ছুটে এসে ছিনতাইকারীদের গাড়িটির পিছু ধাওয়া করলেও, ধারালো অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে ছিনতাইকারীরা ঢাকামুখী লেনে দ্রুত গতিতে গাড়ি চালিয়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।

ঋণগ্রস্ত ব্যবসায়ীর আকুতি
​সর্বস্ব হারানো ব্যবসায়ী দেলোয়ার হোসেন কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন—
​”মানুষের কাছ থেকে ধার-দেনা করে এই গরুগুলো কিনে এনেছিলাম একটু লাভের আশায়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ক্যাম্প কাছে থাকায় ভেবেছিলাম জায়গাটা নিরাপদ। কিন্তু চোখের সামনে আমার এত দামি গরুটি ডাকাতরা নিয়ে গেল, আমি কিছুই করতে পারলাম না। প্রশাসনের কাছে আমার আকুল আবেদন, দয়া করে আমার গরুটি উদ্ধার করে দিন, না হলে আমি পথের ফকির হয়ে যাব।”

​ব্যবসায়ীদের মাঝে চরম ক্ষোভ ও আতঙ্ক

​একই স্থানে গত ১২ দিন ধরে ৪৫টি গরু নিয়ে অবস্থান করা কুষ্টিয়ার ব্যবসায়ী মো. সেলিম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “র‍্যাব এবং পুলিশ ক্যাম্পের এত কাছাকাছি যদি অস্ত্রের মুখে প্রকাশ্য ভোরে গরু লুট হয়ে যায়, তাহলে আমরা কার ভরসায় এখানে ব্যবসা করব? রাত জেগে পাহারা দিয়েও যদি নিরাপত্তা না পাই, তবে আমাদের পক্ষে ব্যবসা করা সম্ভব না।” অন্যান্য ব্যবসায়ীরাও পশুর হাটের চারপাশে এবং মহাসড়কের এই পয়েন্টগুলোতে দ্রুত নিরাপত্তা জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন।

প্রশাসনের বক্তব্য
​এই বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে ফেনী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গাজী মুহাম্মদ ফৌজুল আজিম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান—
“রামপুর এলাকায় ব্যবসায়ীকে জিম্মি করে গরু ছিনতাইয়ের ঘটনাটি আমরা শুনেছি এবং ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীর অভিযোগ পেয়েছি। ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থলে পুলিশের একটি বিশেষ টিম পাঠানো হয়েছে। আশেপাশের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ছিনতাইকারীদের শনাক্ত ও গরুটি উদ্ধারের জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে। ঈদকে সামনে রেখে পশুর হাট ও সংলগ্ন এলাকাগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিতে পুলিশ তৎপর রয়েছে এবং এই চক্রের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।”

error: Content is protected !!