মানবজীবনের চরম সার্থকতা লুকিয়ে আছে মহান সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর নৈকট্য ও ভালোবাসা অর্জনের মধ্যে। আর এই নৈকট্য লাভের সবচেয়ে সহজ এবং কার্যকরী মাধ্যম হলো ‘জিকির’। ইসলামি চিন্তাবিদ ও গবেষকদের মতে, জিকির বান্দা ও রবের মধ্যকার আধ্যাত্মিক দূরত্বকে একেবারেই কমিয়ে দেয়। আল্লাহর স্মরণ মানুষকে দুনিয়ার যাবতীয় পঙ্কিলতা থেকে মুক্ত করে এক পরম পবিত্র অনুভূতির দিকে ধাবিত করে।
পবিত্র কুরআন ও হাদিসের আলোতে জিকির
পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন, “তোমরা আমাকে স্মরণ করো, আমিও তোমাদের স্মরণ করব।” (সূরা বাকারা: ১৫২)। অন্য এক আয়াতে বলা হয়েছে, “জেনে রেখো, আল্লাহর জিকিরেই কেবল অন্তরসমূহ প্রশান্ত হয়।” (সূরা রাদ: ২৮)।
হাদিস শরিফেও জিকিরের গুরুত্ব অপরিসীম। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি তার রবের জিকির করে আর যে ব্যক্তি জিকির করে না, তাদের উদাহরণ হলো জীবিত ও মৃত ব্যক্তির মতো। অর্থাৎ, জিকিরহীন অন্তর আধ্যাত্মিকভাবে মৃত।
দূরত্ব কমানোর মাধ্যম কেন জিকির?
ইসলামী গবেষকদের মতে, মানুষ যখন প্রতিনিয়ত তাসবিহ, তাহমিদ কিংবা তাওহিদের মাধ্যমে আল্লাহর স্মরণে মগ্ন থাকে, তখন তার অন্তর থেকে দুনিয়াবি লোভ-লালসা ও অহংকার দূর হয়ে যায়। জিকিরের ফলে বান্দার হৃদয়ে এক অনন্য নুর বা আলোর সৃষ্টি হয়, যা তাকে সরাসরি রবের কুদরতের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। যত বেশি জিকির করা হয়, আল্লাহর প্রতি বান্দার মহব্বত তত বৃদ্ধি পায় এবং এভাবে বান্দা ও রবের মধ্যকার অদৃশ্য দূরত্ব ঘুচে যায়।
মানসিক ও আত্মিক উপকারিতা
বর্তমান ব্যস্ত ও যান্ত্রিক জীবনে মানুষ যখন নানামুখী মানসিক চাপ ও হতাশায় ভোগে, তখন আল্লাহর জিকির এক মহাশান্তির বার্তা নিয়ে আসে। জিকির শুধু পরকালের পুণ্য অর্জনের মাধ্যমই নয়, বরং এটি মানুষের মনকে শান্ত রাখে, মেজাজকে নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে এবং শয়তানের কুপ্ররোচনা থেকে রক্ষা করে। তাই জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে, ওঠাবসার মাঝে মনে মনে আল্লাহকে স্মরণ করার অভ্যাস গড়ে তোলার আহ্বান জানান ওলামায়ে কেরাম।