টাঙ্গাইলে ৫ম বারের মতো শ্রেষ্ঠ শিক্ষক শাহীন আল মামুন

নিজস্ব প্রতিনিধি:
প্রকাশ: ৫৬ minutes ago

জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ-২০২৬ উপলক্ষে টাঙ্গাইলে ৫ম বারের মতো শ্রেষ্ঠ শ্রেণি শিক্ষক হিসেবে সম্মাননা লাভ করেছেন বিন্দুবাসিনী সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক মুহাম্মদ শাহীন আল মামুন। তাঁর এ অর্জনে শিক্ষা অঙ্গনে ব্যাপক প্রশংসা ও উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়েছে।

মঙ্গলবার (৬ মে) টাঙ্গাইল সদর উপজেলা মডেল মসজিদ হলরুমে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শাহীন মিয়া তাঁর হাতে সম্মাননা তুলে দেন।

শিক্ষাক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে মুহাম্মদ শাহীন আল মামুন ইতোমধ্যে পাঁচবার টাঙ্গাইল জেলার শ্রেষ্ঠ শিক্ষক এবং দুইবার ময়মনসিংহ অঞ্চলের শ্রেষ্ঠ শ্রেণি শিক্ষক নির্বাচিত হয়েছেন। উদ্ভাবনী শিক্ষাদান পদ্ধতি, প্রযুক্তিনির্ভর পাঠদান এবং শিক্ষার্থীদের নৈতিক ও মানবিক বিকাশে নিরলস কাজের মাধ্যমে তিনি শিক্ষক সমাজে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

তিনি দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত। ২০০৫ সাল থেকে বিভিন্ন জাতীয় পর্যায়ের প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে মাস্টার ট্রেইনার ও হেড অব মাস্টার ট্রেইনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (ICT) বিষয়ে দক্ষিণ কোরিয়া সরকারের আমন্ত্রণে একাধিকবার বৈদেশিক প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করেন।

শিক্ষা কার্যক্রমের পাশাপাশি সাহিত্য ও সংস্কৃতিতেও রয়েছে তাঁর সক্রিয় উপস্থিতি। তিনি নিয়মিত জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকায় লেখালেখি করেন। তাঁর লেখা কবিতা, গল্প, উপন্যাস, সায়েন্স ফিকশন ও আত্মউন্নয়নমূলক গ্রন্থ পাঠকমহলে সমাদৃত হয়েছে। পাশাপাশি তিনি নাট্যনির্মাতা, আবৃত্তিকার ও শর্টফিল্ম পরিচালক হিসেবেও পরিচিত।

বর্তমানে তিনি বিন্দুবাসিনী সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক ক্লাবের দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক হিসেবে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে উৎসাহ দিয়ে আসছেন। তাঁর তত্ত্বাবধানে অনেক শিক্ষার্থী বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও সৃজনশীল কার্যক্রমে অংশ নিয়ে প্রতিভা বিকাশের সুযোগ পেয়েছে।

নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে মুহাম্মদ শাহীন আল মামুন বলেন, “আলহামদুলিল্লাহ, এই অর্জনে আমি অত্যন্ত আনন্দিত ও কৃতজ্ঞ। শিক্ষক হচ্ছেন জাতি গড়ার কারিগর। একজন আদর্শ শিক্ষক হিসেবে জাতি গঠনে অবদান রাখতে পারা আমার জন্য গর্বের বিষয়।”

তিনি আরও বলেন, “শুধু পাঠ্যপুস্তকভিত্তিক শিক্ষা নয়, শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও মানবিক গুণাবলীতে সমৃদ্ধ করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সহপাঠ কার্যক্রমের মাধ্যমে একজন শিক্ষার্থীকে পূর্ণাঙ্গ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব।”

নিজের এ সাফল্যের পেছনে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. তোফাজ্জল হোসেনের দিকনির্দেশনা ও সহযোগিতার কথা উল্লেখ করে তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে পরিবার, সহকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতিও ধন্যবাদ জানান তিনি।

error: Content is protected !!