ডিমের লাভজনক বিক্রয়মূল্য নির্ধারণের আহ্বান বিপিআইএর

বাণিজ্যিক প্রতিবেদক (দেশ এডিশন):
প্রকাশ: ১ ঘন্টা আগে

দেশের অন্যতম উদীয়মান ও পুষ্টি সরবরাহকারী খাত পোলট্রি শিল্পের দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা, খামার পর্যায়ে ডিমের উৎপাদন ব্যয়ের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ বিক্রয়মূল্য নির্ধারণ এবং প্রান্তিক খামারিদের প্রাতিষ্ঠানিক সুরক্ষাকল্পে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ পোলট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশন (বিপিআইএ)। গতকাল শনিবার রাজধানীর প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ এই খাতের সার্বিক উন্নয়ন ও টেকসই অগ্রগতির লক্ষ্যে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবনা সরকারের নীতিনির্ধারক মহলের সামনে তুলে ধরেন।

সংবাদ সম্মেলনে বিপিআইএর সভাপতি মোশারফ হোসেন চৌধুরী মূল বক্তব্য পাঠ করেন। এ সময় পোলট্রি খাতের সামগ্রিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে আরও উপস্থিত ছিলেন সংগঠনটির মহাসচিব মো. সাফির রহমান এবং যুগ্ম মহাসচিব অঞ্জন মজুমদার।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, বর্তমান বাজারে খামার পর্যায়ে প্রতিটি ডিমের উৎপাদন খরচ ১০ টাকা দাঁড়ালেও পরিকাঠামোগত বিভিন্ন কারণে এর বিক্রয়মূল্য রয়েছে ৬ টাকা। উৎপাদন ব্যয়ের তুলনায় বিক্রয়মূল্যের এই চার টাকার পার্থক্য খামারিদের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। বর্তমান হিসাব অনুযায়ী, সামগ্রিক পোলট্রি খাতে প্রতি মাসে যে বড় অংকের আর্থিক তারতম্য তৈরি হচ্ছে, তা থেকে উত্তরণের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট সমাধান প্রয়োজন।

এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় এবং খামারিদের ন্যূনতম মুনাফা নিশ্চিত করে উৎপাদন প্রক্রিয়া সচল রাখতে ধান ও আখের মতো ডিমের ক্ষেত্রেও রাষ্ট্রীয়ভাবে ন্যায্যমূল্য বা ‘ফেয়ার প্রাইস’ ব্যবস্থা চালুর জোর আহ্বান জানানো হয়। বিপিআইএর মতে, সরকারের পক্ষ থেকে উৎপাদন ব্যয়ের সাথে সংগতি রেখে একটি আদর্শ মূল্য কাঠামো নির্ধারণ করা হলে প্রান্তিক খামারিরা দীর্ঘমেয়াদে উপকৃত হবেন।

পোলট্রি খাতের আধুনিকায়ন এবং বাজার ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনার লক্ষ্যে জাতীয় পর্যায়ে একটি ‘ডিজিটাল পোলট্রি ডেটাবেজ’ তৈরির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। সংগঠনটির দাবি, এই আধুনিক ডেটাবেজ বাস্তবায়িত হলে সারা দেশে প্রকৃত খামারির সংখ্যা, ডিমের সঠিক উৎপাদন, দেশীয় চাহিদা এবং বাজার পরিস্থিতি সম্পর্কে সম্পূর্ণ বাস্তবসম্মত ও নির্ভরযোগ্য পরিসংখ্যান পাওয়া সম্ভব হবে।

একই সাথে, এই ডিজিটাল ডেটাবেজের তথ্য ব্যবহার করে প্রকৃত প্রান্তিক খামারিদের চিহ্নিত করা সহজ হবে এবং সরকারের দেওয়া বিভিন্ন আর্থিক ভর্তুকি, বিশেষ প্রণোদনা ও স্বল্পসুদে ঋণ সুবিধা সরাসরি প্রকৃত অংশীজনদের কাছে পৌঁছানো নিশ্চিত করা যাবে। দেশের পুষ্টি খাতের সুরক্ষায় ও গ্রামীণ অর্থনীতি সচল রাখতে পোলট্রি খাতের এই সংস্কার প্রস্তাবগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের তাগিদ দিয়েছেন অর্থনৈতিক বিশ্লেষকেরা।

error: Content is protected !!