তিন মাসের জন্য সুন্দরবনে প্রবেশ বন্ধ, বন্ধ মাছ আহরণ ও পর্যটন

মোঃ তাইজুল ইসলাম | শরনখোলা, বাগেরহাট :
প্রকাশ: ৩৭ minutes ago

মাছ, কাঁকড়া ও বন্যপ্রাণীর নিরাপদ প্রজনন এবং সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের লক্ষ্যে আগামী ১ জুন থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত পূর্ব সুন্দরবনের নদী-খাল ও বনাঞ্চলে সব ধরনের মাছ আহরণ এবং পর্যটক প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছে বন বিভাগ। এ সময় সুন্দরবনে প্রবেশের জন্য কোনো ধরনের পাস বা পারমিট ইস্যু করা হবে না।

বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ইন্টিগ্রেটেড রিসোর্সেস ম্যানেজমেন্ট প্ল্যানিং (আইআরএমপি)-এর সুপারিশ অনুযায়ী ২০১৯ সাল থেকে প্রতিবছর ১ জুলাই থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত সুন্দরবনে মাছ আহরণ বন্ধ রাখা হতো। তবে চলতি বছর মৎস্য বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে নিষেধাজ্ঞার সময়সীমা এক মাস বাড়িয়ে ১ জুন থেকে কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

নিষেধাজ্ঞা চলাকালে কোনো জেলে, মৌয়ালী কিংবা পর্যটক সুন্দরবনের অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে পারবেন না। শরণখোলা ফরেস্ট স্টেশনের কর্মকর্তা মো. খলিলুর রহমান জানান, গত ২৫ মে থেকেই সুন্দরবনে প্রবেশের পাস ইস্যু বন্ধ রাখা হয়েছে।

এদিকে সুন্দরবনসংলগ্ন শরণখোলা, তেরাবেকা, খুড়িয়াখালী, সোনাতলা, চালিতাবুনিয়া, বগী, রাজাপুর ও দাশেরভারানী এলাকার অধিকাংশ পরিবার প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সুন্দরবনের সম্পদের ওপর নির্ভরশীল। ফলে টানা তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা ঘিরে স্থানীয় জনগণের মধ্যে উদ্বেগ ও হতাশা দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় জেলেদের ভাষ্য, মহাজনের কাছ থেকে অগ্রিম অর্থ নিয়ে তারা সারা বছর মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন। তিন মাস বন ও নদীতে প্রবেশ বন্ধ থাকায় সংসার চালানো এবং ঋণ পরিশোধ নিয়ে তারা চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন।

অন্যদিকে স্থানীয় মৎস্য ব্যবসায়ীরাও আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন। তাদের দাবি, জেলেদের কাছে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাওনা রয়েছে। দীর্ঘ সময় মাছ আহরণ বন্ধ থাকলে সেই অর্থ আদায় কঠিন হয়ে পড়বে, যা স্থানীয় মৎস্য ব্যবসায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

পর্যটন খাত সংশ্লিষ্টদের মধ্যেও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। ট্যুর অপারেটরদের মতে, এমনিতেই পর্যটকের সংখ্যা তুলনামূলক কম। এর মধ্যে দীর্ঘ সময় সুন্দরবনে প্রবেশ বন্ধ থাকলে পর্যটন ব্যবসা আরও ক্ষতির মুখে পড়বে এবং এ খাতের সঙ্গে জড়িত বহু পরিবার আর্থিক সংকটে পড়বে।

সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, “জলজ প্রাণী ও বন্যপ্রাণীর প্রজনন সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের স্বার্থে প্রতিবছর এই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। নির্ধারিত সময়ে কাউকে সুন্দরবনে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না।”

বন বিভাগের আশা, এ উদ্যোগের ফলে সুন্দরবনের মৎস্যসম্পদ, কাঁকড়া এবং অন্যান্য বন্যপ্রাণীর প্রজনন ও বৃদ্ধি নিশ্চিত হবে, যা দীর্ঘমেয়াদে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।

error: Content is protected !!