রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ইউনিয়নের প্রত্যন্ত পাহাড়ি অঞ্চলগুলোতে এখনো পৌঁছেনি আধুনিক চিকিৎসা সুবিধা। গঙ্গারাম, তলছড়া, দৌজরী, শামুকছড়ি ও দুলুছড়ির মতো দুর্গম এলাকায় অসুস্থ মানুষদের হাসপাতালে নেওয়ার জন্য ভরসা বলতে রয়েছে বাঁশের তৈরি অস্থায়ী অ্যাম্বুলেন্স।
এসব এলাকায় নেই পাকা সড়ক কিংবা মোটরচালিত যানবাহনের সুযোগ। ফলে হঠাৎ অসুস্থতা, প্রসবজনিত জটিলতা বা দুর্ঘটনার ঘটনায় রোগীকে চিকিৎসাকেন্দ্রে নেওয়া হয়ে ওঠে অত্যন্ত কঠিন। এই বাস্তবতায় স্থানীয় বাসিন্দারা নিজেদের উদ্যোগে বাঁশ, দড়ি ও কাপড় দিয়ে তৈরি করছেন এক ধরনের স্ট্রেচার, যা কার্যত অ্যাম্বুলেন্সের বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
স্থানীয়রা জানান, পাহাড়ি আঁকাবাঁকা সরু পথে গাড়ি চলাচল প্রায় অসম্ভব হওয়ায় রোগীকে কাঁধে তুলে কয়েক কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে হয়। কখনো কয়েক ঘণ্টা, আবার কখনো পুরো দিন লেগে যায় নিকটবর্তী স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পৌঁছাতে। তবুও এই ব্যবস্থাই তাদের কাছে একমাত্র আশার আলো।
স্থানীয় ৫নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য পরিচয় চাকমা বলেন, “এই উদ্যোগের কারণে অনেক সময় রোগীর জীবন বাঁচানো সম্ভব হয়েছে। তবে এটি কোনো স্থায়ী সমাধান নয়।”
এ বিষয়ে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান নেলসন চাকমা বলেন, “এটি স্থানীয়দের মানবিকতা ও সংগ্রামের প্রতীক হলেও, দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য প্রয়োজন সরকারি উদ্যোগ। পাহাড়ি এলাকায় সড়ক যোগাযোগ ও জরুরি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।”
দুর্গম পাহাড়ে বাঁশের তৈরি এই অ্যাম্বুলেন্স তাই শুধু একটি বিকল্প পরিবহন নয়—এটি মানবিকতা, সহমর্মিতা এবং বেঁচে থাকার নিরন্তর সংগ্রামের এক জীবন্ত প্রতিচ্ছবি।