নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে বিষাক্ত আগাছা পার্থেনিয়াম, যা নীরবে মানবদেহ, গবাদিপশু ও কৃষির জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে উঠছে। দেখতে ধনে গাছের মতো এই উদ্ভিদটির উচ্চতা সাধারণত দুই থেকে তিন ফুট এবং সবুজ পাতার ফাঁকে ছোট সাদা ফুল থাকে। আকর্ষণীয় চেহারার কারণে অনেকেই এটিকে সহজে শনাক্ত করতে না পারায় এর বিস্তার আরও বাড়ছে। বর্তমানে পতিত জমি, আবাদি জমি, রাস্তার ধারে ও রেললাইনের পাশেও ব্যাপকভাবে দেখা যাচ্ছে এই আগাছা।
কৃষিবিদ ও চিকিৎসকদের মতে, পার্থেনিয়াম একটি অত্যন্ত বিষাক্ত আগাছা। এর সংস্পর্শে মানুষের ত্বকে চুলকানি, লালচে ফোলা ও বিভিন্ন চর্মরোগ দেখা দিতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে আক্রান্ত ব্যক্তি জ্বর ও তীব্র মাথাব্যথায় ভুগতে পারেন। একইভাবে গবাদিপশুর শরীরে লাগলে ফোলা, জ্বর ও বদহজমসহ নানা সমস্যা দেখা দেয় এবং পশুর শরীরে প্রবেশ করলে বিষক্রিয়ার ঝুঁকি থাকে। ফলে এটি জনস্বাস্থ্য ও প্রাণিসম্পদের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে।
এদিকে কৃষি খাতে পার্থেনিয়ামের প্রভাবও উদ্বেগজনক। কৃষকদের অভিযোগ, একবার জমিতে এ আগাছা জন্মালে তা সম্পূর্ণভাবে নির্মূল করা কঠিন হয়ে পড়ে। ফসলের চারা ওঠার সঙ্গে সঙ্গে পার্থেনিয়ামের চারাও গজিয়ে ওঠে, ফলে ফসল উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সালের তুলনায় বর্তমানে এ আগাছার বিস্তার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ক্ষুদ্র বীজ গরুর গোবর, সেচের পানি ও বাতাসের মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে বিভিন্ন এলাকায়।
নলডাঙ্গা উপজেলা ভেটেরিনারি সার্জন ডা. পারভেজ আহমদ, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোঃ সবুজ আলী এবং উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. জুনাইদ হোসেন লেলীন জানান, পার্থেনিয়াম প্রতিকূল পরিবেশেও সহজে বেঁচে থাকতে পারে এবং সব ধরনের মাটিতে জন্মায়। তাই এখনই এ আগাছা দমনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, পার্থেনিয়াম নিয়ন্ত্রণে দ্রুত সচেতনতা বৃদ্ধি, নিয়মিত আগাছা অপসারণ এবং কৃষি বিভাগের সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ জরুরি। অন্যথায় এই ‘সাইলেন্ট কিলার’ আগাছার কারণে কৃষি উৎপাদন, পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।