পুঁইশাকের মেচড়ী চাষে ঝিনাইদহে বাম্পার ফলন

মোঃ উৎপল হোসেন অনিক, ঝিনাইদহ প্রতিনিধি:
প্রকাশ: ১ ঘন্টা আগে

ঝিনাইদহ সদর উপজেলার কৃষিতে যোগ হয়েছে নতুন এক সাফল্যের অধ্যায়। উপজেলার সাগান্না ইউনিয়নের দুটি গ্রামে ইন্ডিয়ান হাইব্রিড জাতের আগাম পুঁইশাকের ফল বা ‘মেচড়ী’র বাম্পার ফলন হয়েছে। বাজারে এর আশাতীত চাহিদা, ভালো দাম ও উৎপাদন দেখে স্থানীয় চাষিদের মুখে এখন সাফল্যের উজ্জ্বল হাসি ফুটে উঠেছে।

স্থানীয় কৃষি সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে সাগান্না ইউনিয়নের সাগার গ্রাম এবং পার্শ্ববর্তী হলিধানী গ্রামের প্রায় ২৫০ বিঘা জমিতে এই উচ্চফলনশীল ও আগাম জাতের পুঁইশাকের বাণিজ্যিক চাষাবাদ করা হয়েছে। কম সময়ে এবং অল্প খরচে ব্যাপক লাভজনক হওয়ায় এলাকার সাধারণ কৃষকরা এই মেচড়ী চাষে দারুণভাবে ঝুঁকে পড়েছেন।

স্থানীয় সফল চাষিদের সাথে কথা বলে জানা যায়, এই জাতের পুঁইশাক ও মেচড়ী চাষে খরচ তুলনামূলক অনেক কম কিন্তু বৈশ্বিক ও দেশীয় বাজারে এর লাভ অনেক বেশি। সাধারণ কৃষকরা এর ব্যয় ও আয়ের একটি বাণিজ্যিক হিসাব তুলে ধরে জানান:

বিঘাপ্রতি খরচ: জমি প্রস্তুতকরণ, উন্নত বীজ বা চারা রোপণ, নিয়মিত পরিচর্যা এবং মাচা (বান) তৈরি করে গাছ ওপরে উঠানো পর্যন্ত এক বিঘা জমিতে সর্বমোট খরচ হয় মাত্র ৩০ হাজার টাকা।
সম্ভাব্য বিক্রয় মূল্য: আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং বাজারে সঠিক দাম বজায় থাকলে এক বিঘা জমির পুঁইশাকের মেচড়ী প্রায় ২ লক্ষ ২০ হাজার টাকায় বিক্রি করা সম্ভব।

সাগার ও হলিধানী গ্রামের কৃষকরা জানান, ইন্ডিয়ান হাইব্রিড জাতের এই পুঁইশাকের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এর মেচড়ী বা ফালের আকার বেশ বড় হয় এবং ফলন সাধারণ দেশীয় জাতের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি। আগাম জাত হওয়ায় বাজারে যখন এর আমদানি শুরু হয়, তখন বেশ চড়া দাম পাওয়া যায়। ফলে সব ধরনের খরচ বাদে বিঘাপ্রতি প্রায় ১ লক্ষ ৯০ হাজার টাকা নিট লাভ করার আশা করছেন তারা।

বর্তমানে এই দুই গ্রামের ২৫০ বিঘা জমির বিস্তীর্ণ মাঠ জুড়ে এখন সবুজের চোখজুড়ানো সমারোহ। মাচায় মাচায় ঝুলছে থোকা থোকা পুঁইশাকের মেচড়ী। এই অঞ্চলের কৃষকদের এমন অভাবনীয় সাফল্য দেখে আশেপাশের অন্যান্য এলাকার চাষিরাও আগামীতে এই লাভজনক হাইব্রিড পুঁইশাকের মেচড়ী চাষে ব্যাপকভাবে উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন বলে স্থানীয় কৃষি বিভাগ জানিয়েছে।

error: Content is protected !!