মাগুরায় আমদানিনির্ভর ও উচ্চমূল্যের বিদেশি ফলের চাষ সম্প্রসারণে নিজ উদ্যোগে অনন্য সাফল্য অর্জন করেছেন তরুণ উদ্যোক্তা সম্পদ মণ্ডল। লেখাপড়ার পাশাপাশি কৃষিতে নতুন সম্ভাবনা উন্মোচনের লক্ষ্যে তিনি তার নিজস্ব জমিতে কোকোয়া, ননীফল, ভ্যানিলা ও করচলসহ বিভিন্ন ঔষধি ও বিদেশি ফলের আবাদ শুরু করেছেন। অল্প সময়ের ব্যবধানে তার এই বাগান এলাকায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।

সম্পদ মণ্ডলের বাগান ঘুরে দেখা যায়, মহম্মদপুর উপজেলার রাজাপুর গ্রামে গড়ে ওঠা এই বাগানের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ চকলেটের প্রধান কাঁচামাল ‘কোকোয়া’। বর্তমানে তার বাগানে প্রায় ৮০টি কোকোয়া গাছ রয়েছে এবং প্রতিটি গাছেই এখন থোকায় থোকায় ফল ধরেছে। এছাড়া লতানো ভ্যানিলা গাছ এবং বিভিন্ন ঔষধি গুণসম্পন্ন ননীফল ও করচল গাছের সফল আবাদ হয়েছে এখানে।

উদ্যোক্তা সম্পদ মণ্ডল জানান, বাংলাদেশে কোকোয়া পাউডারের বিশাল বাজার রয়েছে, যার প্রায় পুরোটাই আমদানির ওপর নির্ভরশীল। চকলেট, আইসক্রিম ও বিভিন্ন বেকারি পণ্য তৈরিতে এই কোকোয়া বহুল ব্যবহৃত হয়। তিনি আরও জানান, ননীফলের নির্যাস বিভিন্ন জটিল রোগের প্রতিষেধক হিসেবে কাজ করায় এরও ভালো চাহিদা রয়েছে। নিজের বাগানের সাফল্যের পাশাপাশি তিনি এখন স্থানীয় পর্যায়ে এসব ফলের চারা উৎপাদন ও সরবরাহ করছেন, যাতে অন্য কৃষকরাও এই লাভজনক চাষে এগিয়ে আসতে পারেন।

সম্পদের বাবা-মা জানান, ছোটবেলা থেকেই তার গাছপালা ও কৃষি গবেষণার প্রতি বিশেষ ঝোঁক ছিল। পড়াশোনার পাশাপাশি তার এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগকে তারা অত্যন্ত ইতিবাচকভাবে দেখছেন এবং তাকে সব ধরনের সহযোগিতা করে যাচ্ছেন।

মাঠ পর্যায়ের কৃষিবিদরা এই উদ্যোগকে দেশের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত সম্ভাবনাময় বলে উল্লেখ করেছেন। স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তা মো. মাসুদ রানা বলেন, “সম্পদ মণ্ডল একজন অত্যন্ত দূরদর্শী ও সফল উদ্যোক্তা। কোকোয়া মূলত দক্ষিণ আমেরিকার ফসল হলেও বাংলাদেশের মাটি ও আবহাওয়া এই চাষের জন্য বেশ উপযোগী। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যদি এই চাষ বাণিজ্যিকভাবে সম্প্রসারণ করা যায়, তবে চকলেটের কাঁচামাল আমদানির ওপর নির্ভরতা অনেক কমে যাবে, যা দেশের বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করতে সাহায্য করবে।”
সম্পদের এই চোখ ধাঁধানো সাফল্য দেখে এখন স্থানীয় অনেক বেকার যুবক ও কৃষক কোকোয়া ও ভ্যানিলা চাষে আগ্রহ দেখাচ্ছেন। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ও সঠিক বিপণন ব্যবস্থা গড়ে উঠলে এই বিদেশি ফল চাষ দেশের কৃষিখাতে এক নতুন বিপ্লব আনতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।