সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলে বোরো ধান পাকার মৌসুম শুরু হলেও ফসল ঘরে তোলা নিয়ে উদ্বেগে রয়েছেন কৃষকরা। হাওরের বিস্তীর্ণ জমিতে সোনালি ধানের শীষ দুলছে, কোথাও কোথাও ধান পুরোপুরি পাকতে আর কয়েকদিন সময় লাগবে। তবে শ্রমিক সংকট, ডিজেল ঘাটতি, অতিবৃষ্টি এবং পাহাড়ি ঢলের আশঙ্কা কৃষকদের দুশ্চিন্তা আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
হাওর এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, কিছু স্থানে ধান কাটা শুরু হয়েছে। কৃষকরা ধান শুকানো ও মাড়াই কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। তবে অধিকাংশ হাওরে এখনো ধান কাটার মূল ধাপ শুরু হয়নি। কৃষকদের ধারণা, আরও এক সপ্তাহের মধ্যে ধান কাটার পুরোদমে কার্যক্রম শুরু হবে।
এদিকে, নতুন করে কিছু এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ায় বোরো ধানের আংশিক ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। অনেক স্থানে ধানগাছ অর্ধেক পানির নিচে থাকায় হারভেস্টার মেশিন ব্যবহার করা কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে যান্ত্রিক পদ্ধতিতে ধান কাটার পরিকল্পনা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
কৃষকদের মতে, চলতি মৌসুমে ফলন তুলনামূলক ভালো হয়েছে। তবে আবহাওয়া অনুকূলে না থাকলে ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। শ্রমিক সংকট নিরসনে তারা বালু ও পাথর মহাল সাময়িক বন্ধ রাখার দাবি জানিয়েছেন, যাতে শ্রমিকরা কৃষিকাজে যুক্ত হতে পারেন।
কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, জেলার ১২ উপজেলায় ইতোমধ্যে ৭৫৫ হেক্টর জমির ধান কাটা হয়েছে। জলাবদ্ধতায় প্রায় ৩ হাজার ১৮৯ হেক্টর জমির ধান আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। চলতি মৌসুমে প্রায় দুই লাখ কৃষক ২ লাখ ২৩ হাজার ৫১১ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদ করেছেন, যার আনুমানিক বাজার মূল্য প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা।
ধান কাটার জন্য জেলায় প্রায় ৯০০টি হারভেস্টার মেশিন প্রস্তুত রয়েছে। পাশাপাশি রিপার মেশিনও ব্যবহার করা হবে। তবে হাওরের অনেক এলাকায় পানি জমে থাকায় যন্ত্রের ব্যবহার সীমিত হয়ে পড়েছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ওমর ফারুক জানান, জেলার ১৩৭টি হাওরে ধান কাটা শুরু হয়েছে এবং আগামী সপ্তাহে তা পূর্ণ মাত্রায় চলবে। ডিজেল সরবরাহ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বিশেষ বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া থাকলে আগামী ১৫ মে’র মধ্যে ধান কাটা সম্পন্ন হওয়ার আশা করা হচ্ছে।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সমর কুমার পাল বলেন, ফসল রক্ষায় হাওরে আগেই বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে। কোথাও জলাবদ্ধতা তৈরি হলে পানি অপসারণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি দ্রুত ধান কাটতে কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে এবং শ্রমিক সংকট নিরসনে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণের বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।