
ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল এবং গত কয়েকদিনের টানা ভারী বর্ষণে কুড়িগ্রামের প্রধান প্রধান নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, জেলার ধরলা ও ব্রহ্মপুত্র নদে পানি হু হু করে বাড়ছে এবং কাউনিয়া পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমা ছুঁই ছুঁই করছে। নদীগুলোর পানি বৃদ্ধির ফলে জেলার বিভিন্ন চরাঞ্চল ও নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলগুলো প্লাবিত হতে শুরু করেছে।
আজ বুধবার সকাল ৯টায় পাউবোর হাইড্রোলোজিক্যাল ডেটা অনুযায়ী, কুড়িগ্রাম পয়েন্টে ধরলা নদীর পানি ২৪ দশমিক ৮৪ মিটার রেকর্ড করা হয়েছে, যা বিপদসীমার (২৬.০৫ মিটার) থেকে মাত্র ১ দশমিক ২১ মিটার নিচে রয়েছে। তালুক শিমুলবাড়ী পয়েন্টে ধরলার পানি বিপদসীমার ০ দশমিক ৯৩ মিটার নিচে এবং পাটেশ্বরী পয়েন্টে দুধকুমার নদীর পানি ২৮ দশমিক ৭৫ মিটার উচ্চতায় স্থির রয়েছে।
অন্যদিতে, নুনখাওয়া ও চিলমারী পয়েন্টে ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বিপদসীমার যথাক্রমে ১ দশমিক ৪৯ ও ১ দশমিক ২৮ মিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ তৈরি করেছে তিস্তা নদী। কাউনিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি ২৯ দশমিক ০৫ মিটার রেকর্ড করা হয়েছে, যা বিপদসীমার (২৯.৩১ মিটার) থেকে মাত্র ০ দশমিক ২৬ মিটার নিচে অবস্থান করছে। ফলে তিস্তা অববাহিকায় বন্যার শঙ্কা দিন দিন ঘনীভূত হচ্ছে।
+——————-+——————–+————————+
| নদীর নাম ও পয়েন্ট | বর্তমান পানির স্তর | বিপদসীমা থেকে দূরত্ব |
+——————-+——————–+————————+
| তিস্তা (কাউনিয়া) | ২৯.০৫ মিটার | ০.২৬ মিটার নিচে |
| ধরলা (কুড়িগ্রাম) | ২৪.৮৪ মিটার | ১.২১ মিটার নিচে |
| দুধকুমার (পাটেশ্বরী)| ২৮.৭۵ মিটার | ০.৮৫ মিটার নিচে |
| ব্রহ্মপুত্র (নুনখাওয়া)| ২৪.৫৬ মিটার | ১.৪৯ মিটার নিচে |
+——————-+——————–+————————+
আবহাওয়া অফিসের তথ্যানুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় কুড়িগ্রামে ৫২ মিলিমিটার, পাটেশ্বরীতে ৫৫ মিলিমিটার এবং কাউনিয়ায় ৩৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলগুলোতে আকস্মিক পানি প্রবেশ করায় কৃষকের আবাদি চীনাবাদাম, পাট, মরিচ ও ভুট্টা ক্ষেত তলিয়ে গেছে। আংশিক ফসল নষ্ট হওয়ায় স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিবুল হাসান পরিস্থিতির সার্বিক সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “সীমান্তবর্তী এলাকায় অব্যাহত বৃষ্টিপাত ও উজানের ঢলের কারণে নদ-নদীর পানি বাড়ছে। বিশেষ করে তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমার খুব কাছাকাছি অবস্থান করছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো নদীর পানি বিপদসীমা অতিক্রম করেনি।”
তিনি আরও জানান, উজানে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা পানি বৃদ্ধি পাওয়ার ধারা সচল থাকতে পারে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পাউবোর পক্ষ থেকে সার্বক্ষণিক তদারকি ও নজরদারি চালানো হচ্ছে এবং যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। নদী তীরবর্তী ও চরাঞ্চলের বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার ও সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।