
আন্তর্জাতিক ফুটবলের মহোৎসবের কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়ামকে ২-১ গোলের ব্যবধানে হারিয়ে দীর্ঘ ১৬ বছর পর বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন। ২০১০ সালের পর এই প্রথম স্প্যানিশরা বৈশ্বিক এই টুর্নামেন্টের শেষ চারে নিজেদের জায়গা করে নিল। আগামী ১৪ জুলাই প্রথম সেমিফাইনালে বর্তমান বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী দল ফ্রান্সের বিপক্ষে মাঠে নামবে স্প্যানিশরা, যা ফুটবলপ্রেমীদের মাঝে ইতিমধ্যেই ব্যাপক উদ্দীপনা তৈরি করেছে।
স্পেন দলের প্রধান কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তের দূরদর্শী কৌশলের কারণে পুরো ম্যাচজুড়েই দুর্দান্ত আধিপত্য দেখায় স্প্যানিশরা। বিশেষ করে ম্যাচের ৮৮ মিনিটে দলের অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার ও নির্ভরযোগ্য বদলি খেলোয়াড় মিকেল মেরিনোর চমৎকার এক স্কোরে দ্বিতীয়বারের মতো ম্যাচে এগিয়ে যায় স্পেন, যা শেষ পর্যন্ত দলের জয় নিশ্চিত করে।
চলতি বিশ্বকাপে স্পেনের প্রধান কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তের জন্য মিকেল মেরিনো এক অনন্য ভরসার নাম হয়ে উঠেছেন। পর্তুগালের বিপক্ষে ম্যাচেও ইনজুরি টাইমে গোল করে দলকে উদ্ধার করেছিলেন এই মিডফিল্ডার। বেলজিয়ামের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচেও নিজের সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখলেন তিনি।
ম্যাচের ৮৮ মিনিটে স্পেনের তরুণ ডিফেন্ডার পাউ কুবারসি দূরপাল্লার একটি শট নেন। বেলজিয়ামের রক্ষণভাগ ও গোলকিপার সেনে ল্যামেন্স সেই জোরালো শটটি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে নিতে ব্যর্থ হলে বলটি হাত ফসকে সামনে চলে আসে। সঠিক সময়ে সঠিক স্থানে অবস্থান করা মিকেল মেরিনো সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে আলতো টোকায় বল জালে জড়িয়ে দেন। এই গোলের পর বেলজিয়াম শিবিরে উল্লাসের সুযোগ আর ছিল না এবং স্পেনের জয় নিশ্চিত হয়ে যায়।
পুরো ম্যাচজুড়েই স্পেনের আক্রমণভাগ ও মিডফিল্ড চমৎকার পাসিং ফুটবল উপহার দেয়। প্রথমার্ধ ও দ্বিতীয়ার্ধের নির্ধারিত সময় পর্যন্ত স্পেনের আক্রমণ সামলাতে বেলজিয়ামের রক্ষণভাগকে বেশ বেগ পেতে হয়। শেষ মুহূর্তের এই জয়ে স্পেনের ফুটবলার ও সমর্থকরা বুনো উল্লাসে মেতে ওঠেন।
কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে ম্যাচ শেষে দলের খেলোয়াড়দের এই লড়াকু মানসিকতার প্রশংসা করেন। এখন সবার চোখ ১৪ জুলাইয়ের প্রথম সেমিফাইনালের দিকে। যেখানে টুর্নামেন্টের অন্যতম ফেবারিট লা রোহারা মুখোমুখি হবে ফর্মের তুঙ্গে থাকা ফ্রান্সের। ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, ফাইনালের টিকিট কাটার এই লড়াইটি চলতি বিশ্বকাপের অন্যতম সেরা এবং আকর্ষণীয় একটি ম্যাচ হতে যাচ্ছে।