
আর্লিং হলান্ড নামের এক নরওয়েজীয় ধুমকেতুতে স্তব্ধ হয়ে গেল সাম্বার তাল, সেই সাথে চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে গেল ব্রাজিলের বহুল প্রতীক্ষিত ষষ্ঠ শিরোপা বা ‘হেক্সা’ জয়ের লালিত স্বপ্ন। ফুটবল বিশ্বকাপে ব্রাজিলের বিপক্ষে নিজেদের ঐতিহাসিক ও অজেয় রেকর্ড অক্ষুণ্ন রেখে স্ট্রাইকার আর্লিং হলান্ডের দুর্দান্ত জোড়া গোলে সেলেসাওদের বিদায় করে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোয়ার্টার ফাইনালে পা রাখলো নরওয়ে।
ম্যাচের প্রথমার্ধ গোলশূন্য থাকার পর ৭৯ মিনিটে ব্রাজিলিয়ান ডিফেন্সে প্রথম ফাটল ধরিয়ে দারুণ এক ফিনিশিংয়ে নরওয়েকে এগিয়ে নেন দেশটির সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা হলান্ড। প্রথম গোলের ধাক্কা সামলে ব্রাজিল যখন ম্যাচে সমতা ফেরাতে মরিয়া হয়ে আক্রমণ চালাচ্ছিল, ঠিক তখনই সেলেসাওদের সব চেষ্টায় জল ঢেলে দেন এই ম্যানচেস্টার সিটি তারকা। ৯০ মিনিটে দুর্দান্ত এক কাউন্টার অ্যাটাক থেকে ব্যবধান দ্বিগুণ (২-০) করেন তিনি।
এই জোড়া গোলের সুবাদে চলতি বিশ্বমঞ্চে নিজের মোট গোলসংখ্যা সাতে (৭) নিয়ে গেলেন হলান্ড। একই সঙ্গে আসরের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় (গোল্ডেন বুট রেস) তিনি ছুঁয়ে ফেলেছেন আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসি ও ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পেকে। নরওয়েকে কোয়ার্টারে তোলার পর মাঠের মাঝখানে নিজের ট্রেডমার্ক ‘মেডিটেশন’ বা ধ্যানমগ্ন উদযাপনে দলের সতীর্থদের নেতৃত্ব দেন এই নরওয়েজীয় গোলমেশিন।
ম্যাচের নির্ধারিত সময় শেষে যোগ করা সময়ে (ইঞ্জুরি টাইম) পেনাল্টি থেকে একটি গোল শোধ দিয়েছিলেন ব্রাজিলের পোস্টার বয় ও বদলি হিসেবে মাঠে নামা নেইমার জুনিয়র। তবে এই গোলটি কেবল সান্ত্বনাই এনে দিতে পেরেছে, দেশের দীর্ঘ দুই যুগের (২৪ বছর) শিরোপা আক্ষেপ ঘোচাতে পারেনি। ফলে রেফারির শেষ বাঁশি বাজার সাথে সাথেই মাঠের ভেতরে ও গ্যালারিতে নেইমারদের সঙ্গী হয় কান্নার রোল।
এর আগে ১৯৯৮ সালের ফ্রান্স বিশ্বকাপেও গ্রুপ পর্বের ম্যাচে ব্রাজিলকে ২-১ গোলে হারিয়ে চমক দিয়েছিল নরওয়ে। তবে সেবারের ধাক্কা সামলে ব্রাজিল ফাইনালে পৌঁছালেও, এবারের নকআউটের হারের ধাক্কা সম্পূর্ণ ভিন্ন। ২০০২ সালে সর্বশেষ বিশ্বকাপ জয়ের পর থেকে দীর্ঘ ২৪ বছরে সেলেসাওরা আর কোনো বিশ্বকাপের ফাইনালেই পৌঁছাতে পারেনি।
বড় স্বপ্ন নিয়ে এই আসরের আগে ব্রাজিলিয়ান ফুটবল ফেডারেশন দায়িত্ব দিয়েছিল ইতালির পরীক্ষিত ও অন্যতম সফল রিয়াল মাদ্রিদ কোচ কার্লো আনচেলত্তিকে। কিন্তু এই অভিজ্ঞ টেকনিশিয়ানের সব রণকৌশল একাই ধুলিসাৎ করে দিলেন হলান্ড। গত বিশ্বকাপে ক্রোয়েশিয়ার কাছে কোয়ার্টার ফাইনালে হেরে বিদায় নেওয়া ব্রাজিল এবার সেই ধাপ পর্যন্তও পৌঁছাতে পারলো না। হলান্ডের কাছে হেরে নেইমারদের হেক্সা মিশনের অপেক্ষা দীর্ঘায়িত হলো আরও অন্তত চারটি বছর।